Thursday, 9 October 2025

সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী Philosophy of Sandip Goswami

 সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী 



"মানুষের তিনটি ইচ্ছা প্রকৃতি পূরণ করে, এর বাইরে অন্য সব ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই ধনী, দরিদ্র, জ্ঞানী, মূর্খ, নারী, পুরুষ সবাই অতৃপ্ত। এটাই প্রকৃতির সাম্যবাদ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যার সোনায় খাদ মেশানোর কথা, সে শিক্ষক । যার জেলখানায় থাকার কথা, তার হাতে প্রশাসন । যার রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় অপসংস্কৃতি, সে সংস্কৃতির ধারক-বাহক । আর যে মানুষটি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, তাঁর রাত কাটে দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে । ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে তরুণ প্রজন্ম । ওদের জানতেই দিলাম না, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী! প্রশাসন কাকে বলে! সংস্কৃতির অবদান কোথায়! বুঝতেই দিলাম না যে স্বপ্নহীন মানুষ জীবিত নয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সৎমানুষদের মধ্যে সরলতা, মহানুভবতার সাথে গোপন অহংকারও থাকে । সেই অহংকার এই ধরণের মানুষদের প্রধান চালিকাশক্তি । অনেক সময় তাঁদের এই অহংকারকে ভুল বুঝে আমরা আহত হয়ে থাকি । তবু একজন সৎমানুষের মৃত্যু হাজার ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা, প্রশাসক, লেখকের মতো গুণীজনদের মৃত্যু থেকে সমাজের গভীরে বেশি ক্ষত সৃষ্টি করে । সততার সাধনায় প্রতিভা নয়, চাই তীব্র ইচ্ছাশক্তি । আমরা ইচ্ছা করলেই সৎমানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারি ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্বে উত্তরণকে সভ্যতা বলে। বিশ্বে এই সভ্যতা আজও সম্পূর্ণরূপে আসেনি। তাই নগর কখনও অরণ্যের থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে।" সন্দীপ গোস্বামী


"মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের শিক্ষায় জাতের নামে বজ্জাতি অথবা নিচু জাতের জন্য মেকি সংরক্ষণের কোনও মান্যতা ছিল না। তিনি মেধাশক্তিকে সর্বদা মর্যাদা দিতেন। ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব দিতেন। এমন বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা উচিত।" সন্দীপ গোস্বামী


"এই সময়ের পৃথিবীতে তুমি দুটি জিনিস অন্যদের থেকে পাবে । হিংসা অথবা করুণা । তোমার সফলতায় হিংসা এবং ব্যর্থতায় করুণা । তাই দুঃখ পেও না । করুণা নিয়ে বেঁচে থাকা অর্থহীন । তুমি ভালোবাসার রাজা বা রাণী হয়ে ভালোবাসা বিলিয়ে যাও, ভালোবাসার ভিখারি হতে চেও না । একদিন তোমার ভালোবাসায় লেখা হবে মানবজাতির ভবিষ্যৎ, তুমি হবে ইতিহাস ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সনাতন হিন্দু ধর্মের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে ঘটেছে। এই ধর্মের সৌন্দর্যও বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে পূর্ণতা পেয়েছে। একইভাবে ইসলাম ধর্মের অভ্যন্তরীণ প্রেম, উদারতা সহ পূর্ণরূপ সুফি সংস্কৃতিতে প্রস্ফুটিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ভক্তি আন্দোলনে এই দুই সংস্কৃতির মহামিলন ঘটেছিল।" সন্দীপ গোস্বামী


"হৃদয় দিতে হলে খন্ডে নয়, সমগ্রে দাও ; দোষ বা গুণে নয়, সমগ্র চরিত্রে দাও। জেনে রেখো যা ত্রুটিহীন, তাই কৃত্রিম।" সন্দীপ গোস্বামী


"দেশ বলতে শুধু দেশের সরকার, সংবিধান, জাতীয় পতাকা বা সংগীত নয়। দেশবাসী, পশু-পাখি, আকাশ, পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি, অরণ্য, নদী, ঝরণা, দেশের ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য এবং সংস্কৃতিসহ সমগ্রকে নিয়ে একটি দেশ গড়ে ওঠে। খণ্ড নয় সমগ্র দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা থেকে দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে একজন দেশপ্রেমী বিশ্বপ্রেমী হয়ে ওঠে।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"জাতপাত সর্বদা ভয়ঙ্কর, তা সমাজ পোষিত হোক বা রাষ্ট্র পোষিত হোক। জাতপাত মানবজীবনে ক্যানসারের চেয়েও ক্ষতিকর যা অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে একইসাথে বিষাক্ত করে তোলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমাদের সর্বাঙ্গে কোনও না কোনও ধর্ম আছে । আমরা যে মানুষ । সব ধর্ম আমাদের মানবিকতার কথাই শেখায় । বিজ্ঞান আমাদের বেঁচে থাকতে আর ধর্ম আমাদের ভালবাসতে শেখায় । এখানেই বিজ্ঞান এবং ধর্মের ঐতিহাসিক অবদান ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সর্বশক্তিমান প্রত্যেক মানুষকে কিছু সময়ের জন্য একটি জীবন দিয়েছেন । সেই জীবন সেই মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত । অন্যের হস্তক্ষেপ করা একদম উচিত নয় । শিশু নিজের শৈশব উপভোগ করে নিজের দেহ গঠন করবে । কিশোর তার জিজ্ঞাসু দুটি নয়ন দিয়ে জগত চিনবে । যুবক গড়ে তুলবে কর্ম, জ্ঞান এবং প্রেমের সংসার । বয়স্কমানুষেরা খুশি মনে উত্তরসূরিদের প্রতি নজর রাখবে এবং তাদের মার্গদর্শন শেখাবেন ।" সন্দীপ গোস্বামী


"এই বিশ্বে নব্বই শতাংশ মানুষ সৎ, ভদ্র এবং সরল । অথচ এই পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতা দশ শতাংশ খারাপ মানুষ দখল করে রেখেছে । এর পিছনে একটাই কারণ যে খারাপ মানুষেরা সংগঠিত, কিন্তু ভালো মানুষেরা অসংগঠিত । যেদিন ভালো মানুষেরা সংগঠিত হবেন সেইদিন এই পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, নানা মুনির নানা মত। নির্দ্বিধায় বলতে পারি জন্মস্থান সম্বন্ধীয় প্রতিটি মতামত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসত্য এবং মিথ্যা। সেই সময়ের চৈতন্য জীবনীকারেরা সুপরিকল্পিতভাবে মহাপ্রভুর জন্ম-মৃত্যুকে গৌণ রেখে, চৈতন্য জীবনচরিতকে আলোকিত করেছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, যুগে যুগে মানুষের নিত্য চেতনায় চৈতন্য আবির্ভূত হোক এবং মানুষের বিকৃত বোধে হোক চৈতন্যের তিরোধান। " সন্দীপ গোস্বামী


"ভারতবর্ষে কোন কালেই ব্রাহ্মণ্যবাদ আসেনি, এলে এই দুর্ভাগা দেশে সোনা ফলত। তথাকথিত ব্রাহ্মণ্যবাদ, প্রকৃতপক্ষে রাজতন্ত্র এবং পুঁজিবাদী ষড়যন্ত্রের নিকৃষ্টতম ফসল।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমি ঈশ্বরের কাছে কিছু চাই নি,

চেতনার শিখরে যে উপলব্ধি

আত্ম প্রতীক হয়ে ওঠে, তাই দিয়েছি

আর অনেক আবেগ, নীরবতা।"

সন্দীপ গোস্বামী


"আত্মার সাথে আত্মার, আত্মার সাথে প্রকৃতির, আত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ স্থাপনকে যোগ বলে। নিজের দোষত্রুটি বিয়াগ যোগের প্রথম ধাপ। " সন্দীপ গোস্বামী


"ভাগ্যবান অযোগ্যের দাপাদাপি এবং ভাগ্যহীন যোগ্য মানুষের ক্রন্দন এই সময়ের ভবিতব্য! প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর আচরণের কোন গ্রহণযোগ্য কারণ আজও খুঁজে পাইনি!" সন্দীপ গোস্বামী


"আমি জানতাম না, ঈশ্বর, আল্লাহ, গড কেমন দেখতে, কোথায় তাঁদের দেখতে পাব! তাই খুঁজেছি মন্দির, মসজিদ, গির্জায়...তাঁকে পেয়েছি সেই মানুষগুলির মধ্যে যাঁরা ঈশ্বরকে ভালোবাসেন, আল্লাহর মধ্যে খুঁজে পান মানবপ্রেম, হৃদয়ের গডকে শ্রদ্ধা করেন। এই মানুষদের উদারতা, মানবতা এবং ভালোবাসা আমার মাথা নত করে দিল।" সন্দীপ গোস্বামী


"কে তোমায় প্রকৃত ভালবাসে, এটা বুঝতে না পারাই একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা এবং নির্বুদ্ধিতা!" সন্দীপ গোস্বামী


"বৃহৎ জীবন শুধুমাত্র বড় বড় কথা বলেনা, বড় বড় কাজ করে। কথা নয়, বৃহৎ কর্মের মাধ্যমে মহত্ত্বের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে থাকে।" সন্দীপ গোস্বামী


"অনেকে বলেন অর্থাভাবে ভালোবাসা খিড়কি দিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকে বলেন ভালোবাসার জন্য মনের মিল চাই, বিশ্বাস চাই, আরও কত কিছু....আমি বুঝি ভালোবাসার জন্য শুধু এক বুক বিশুদ্ধ ভালোবাসা চাই। এই ভালোবাসায় একজন নয়, দুইজন নয়, একসাথে সমগ্র জগৎকে ভালোবাসা যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"যার হৃদয়ে শ্রদ্ধা আছে এবং চেতনায় শুভবুদ্ধি I সেই সবাইকে ভালোবাসতে পারে I" সন্দীপ গোস্বামী


"সমস্যার স্তূপে বসে লিখতে থাকে সময়ের ইতিহাস, মানবতাবাদ। কেউ বলে রম্যরচনা, কেউ বলে কবিতা।" সন্দীপ গোস্বামী


"যিনি সত্যের পথে হাঁটছেন, তার কাছে সর্বপ্রকার ধন আসতে থাকবে। অজান্তে তাকে অনুসরণ করা প্রকৃত মানুষের দল তার সাথে হাঁটতে থাকবে। পথসঙ্গীদের মুগ্ধতা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় তার চারিদিকে ছেয়ে থাকবে শান্তির বাতাবরণ, এমন সম্মান সে পেতে থাকবে যা কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনি। এমনকি সে অমরত্ব পেয়ে যেতে পারে।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"পিছন থেকে নিরন্তর বিষাক্ত ছোবল খেতে খেতে জীবনটাই হয়ে উঠছে অমৃতের ভাণ্ড! অবাক, হতবাক!" সন্দীপ গোস্বামী


"যখন কোন মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন যে, এই দুনিয়ায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলে কিছু নেই। মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যে তার জন্য কেউ অশ্রুপাত করবেনা এবং তার স্মৃতিচারণ আর কেউ করবেনা। সেইদিন থেকে মানুষটি শান্ত হতে শুরু করে।" সন্দীপ গোস্বামী


"সর্বগ্রাসী বোধের কারণে ডাইনোসরের বিনাশ ঘটেছে, মানুষও এই সর্বগ্রাসী বোধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে! জীবনে বোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বোধে জীবের বিনাশ, আবার বোধেই উত্তরণ ঘটে থাকে।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষার নাম, অনুভূতির ভাষা। এই ভাষায় দক্ষতা, একজন মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"এই সময়ে পিতামাতা ছাড়া আর কাউকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে নেই। নচেৎ বুক ফাটবে নিশ্চিত।" সন্দীপ গোস্বামী


"মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার, স্বগৃহে, যেখানে খুশি সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে। নিজের জন্য না হয়ে, তা যেন বিশ্বকল্যাণে আয়োজিত হয়। অন্যথায় সমস্ত প্রার্থনা নিষ্ফল হয়ে যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে কথাটি আমাদের মননে ঢেউ তোলে, কেন ভালো মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছেন! গভীর পর্যবেক্ষণ করলেই এর উত্তর পাওয়া যাবে। বাইরের ভালো আর অন্তরের ভালোর মধ্যে একটা টালমাটাল অবস্থা এদের মধ্যে দেখা যায়। তাদের এক পা সত্যে এবং অন্যটি মিথ্যায়। এই দোদুল্যমান অবস্থায় তারা বেসামাল। তাই সত্য-পথযাত্রীদের উচিত সত্য পথের মাঝখান দিয়ে হাঁটা, শিরদাঁড়া টানটান করে। তখন তিনি আর কোন সজীব বস্তু নন, হয়ে উঠবেন 'মানুষ'।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"প্রকৃতি কী সুন্দর! জীবন কত সুন্দর! তুমিও খুব সুন্দর! সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয় অপূর্ব! এই ভাবনা আমাকেও সুন্দর করে তোলে!" সন্দীপ গোস্বামী


"মনের মতো বাক্য অনেক সময় উৎকৃষ্ট নাও হতে পারে। যে বাক্য মনকে উৎকৃষ্ট করে তোলে তাকেই উৎকৃষ্ট বাক্য বা দর্শন বলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"সব ধর্মের মূল কথা হল, জগতকে ভালোবাস এবং জগত থেকে ভালোবাসা গ্রহণ কর। এই সরল সত্যকে যারা বুঝতে পারেনা, তারা ধর্মহীন জটিল প্রকৃতির মানুষ।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রতিটি মানুষের জীবনে আসে প্রেম, আসে বসন্ত, আসে উত্তরণ। আবার অনাদরে, অবহেলায় দ্রুত হারিয়েও যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"পরিস্থিতির চাপে যখন দাতাকে গ্রহীতা হতে হয়, সেই সময় পরমাত্মারও নয়ন ছলছল করে।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভালোবাসা এবং প্রেম এক নয়! হৃদয় কেন্দ্রিক আনন্দের উচ্ছ্বাসকে ভালোবাসা বলা যায়, যা ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু প্রেম হল আত্মাস্থিত পরমানন্দের নীরব প্রবাহ, যা চিরস্থায়ী।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"মানুষ প্রকৃতিগত দুর্বল সৃষ্টি। দুর্বলতা থেকে সবলতায় উত্তরণের পথ হল শিক্ষা।" সন্দীপ গোস্বামী


"মিশরের মানুষ প্রত্যেক ভারতবাসীকে 'প্রফেসর' বলে সম্বোধন করেন। উনারা বিশ্বাস করেন যে ভারতবাসীরা জন্মগত 'বিশ্বশিক্ষক'। ভারতের মতো মিশরও বিশ্বে প্রাচীনতম সভ্যতা।" সন্দীপ গোস্বামী

সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী Philosophy of Sandip Goswami

সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী 




"শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান কোথায়! পড়লাম প্রচুর গ্রন্থ, বুঝলাম গবেষকদের গবেষণা । তবু জানতে পারলাম না, কোথায় সেই পবিত্র স্থান! মন দিয়ে পড়লাম চৈতন্য ভাগবত, চৈতন্য চরিতামৃত এবং বিজ্ঞানী সুরেন্দ্রনাথ গুইয়ের অভূতপূর্ব গ্রন্থ 'পাতালদেবের তত্ত্ব' । পাতালদেব একজন পরম বৈষ্ণব সাধক, উনার পূর্ব নাম ছিল নারায়ণ গোস্বামী । নবদ্বীপের বনচারী বাগানে উনার আশ্রম । হঠাৎ মাথায় এল এই জায়গার নাম বনচারী বাগান হল কেন! পাশে কেন দণ্ডপাণিতলা (যার হাতে দণ্ড থাকে), বৈদিক পাড়া এবং গোবিন্দ দিঘি! কেন পাতালসাধুর আশ্রম ঘিরে রাধারমণ কর্মকার, সরস্বতী দাস, গৌরীশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভারতবিখ্যাত কীর্তনীয়ার বাসস্থান! বারবার গেছি পাতালসাধুর আশ্রমে, একবার পাতালে নেমে দেখেছি তাঁর সাধনপীঠ । প্রশ্ন জাগে কেন তিনি বেছে নিলেন এই অখ্যাত স্থান! আমার হাতে কোন পাথুরে প্রমাণ নেই যে এই নিয়ে লিখব । তবু হৃদয় বারবার বলে ওঠে পাতাল বাবা কি খুঁজে পেয়েছেন শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান!" সন্দীপ গোস্বামী


"একটি দেশকে জানতে হলে সেই দেশের ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংবিধান ইত্যাদি জানার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হল সেই দেশে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। এখানেই লুকিয়ে আছে দেশটির ডিএনএ।" সন্দীপ গোস্বামী


"শিশুরা পৃথিবীকে দু'টি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করে । একটি মায়ের দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী খুব সুন্দর ঠিক তার মায়ের মতো । আর একটি হল পিতার দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামে ব্যস্ত। এরপর শিশুটি শিক্ষিত হতে থাকে, সে কবি, সাহিত্যিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীকে দেখতে শুরু করে । যে পৃথিবী প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে । খুলতে থাকে শিশুর চোখ, উন্মোচিত সেই দৃষ্টিতে সে দেখতে থাকে নিজের পৃথিবী যা তার একান্ত নিজস্ব । ধীরে ধীরে সে পরিণত মানুষে রূপান্তরিত হতে থাকে । মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবন যখন অন্ধকারে ঢেকে যায়, একটু আলোর সন্ধানে আমরা আশ্রয় নিই দার্শনিকদের প্রবচনে, জ্যোতিষীর দরবারে, মন্দির, মসজিদ, গির্জায় । বাস্তবে অন্ধকার আরও ঘনীভূত হয় । আমরা অবসাদে ভুগতে থাকি । এই দুঃসময়ে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা উচিত । আমি কে? জন্মতারিখের আগে আমি কোথায় ছিলাম? মৃত্যুতারিখের পর কোথায় যাব? কেন এই পৃথিবীতে জন্মালাম? আমার মনুষ্যজন্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সব প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজে পাব না । তবু বুঝতে পারব যে আমাদের মধ্যে নতুন আলো জ্বলে উঠছে, আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতার অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে । আমরা সাধারণ মানুষ থেকে মানব হয়ে উঠছি । আর যে নিজেই আলোর উৎস হয়ে ওঠে, তার সামনে কোন অন্ধকার থাকতে পারে কী!" সন্দীপ গোস্বামী"সৎমানুষদের মধ্যে সরলতা, মহানুভবতার সাথে গোপন অহংকারও থাকে । সেই অহংকার এই ধরণের মানুষদের প্রধান চালিকাশক্তি । অনেক সময় তাঁদের এই অহংকারকে ভুল বুঝে আমরা আহত হয়ে থাকি । তবু একজন সৎমানুষের মৃত্যু হাজার ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা, প্রশাসক, লেখকের মতো গুণীজনদের মৃত্যু থেকে সমাজের গভীরে বেশি ক্ষত সৃষ্টি করে । সততার সাধনায় প্রতিভা নয়, চাই তীব্র ইচ্ছাশক্তি । আমরা ইচ্ছা করলেই সৎমানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারি ।" সন্দীপ গোস্বামী


"অনেকে বলেন অর্থাভাবে ভালোবাসা খিড়কি দিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকে বলেন ভালোবাসার জন্য মনের মিল চাই, বিশ্বাস চাই, আরও কত কিছু....আমি বুঝি ভালোবাসার জন্য শুধু এক বুক বিশুদ্ধ ভালোবাসা চাই। এই ভালোবাসায় একজন নয়, দুইজন নয়, একসাথে সমগ্র জগৎকে ভালোবাসা যায়।" সন্দীপ গোস্বামী"জীবের রক্তহীনতার ক্ষেত্রে পুনরায় রক্ত দিলে সেই জীব সুস্থ হয়ে ওঠে। চক্ষু ট্রান্সমিশন, হার্ট ট্রান্সমিশন প্রভৃতি কার্যের মাধ্যমে দেহ যন্ত্রের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে দেহ যন্ত্রকে চালু করা যায়। এটি জড় বিজ্ঞানের সম্মানযোগ্য গবেষণা। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে ধর্মবিজ্ঞানীদের মাথা নিচু করলে কোন অসম্মান হয়না। এইসব চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনুষ্যরূপী দেবতা। তবু আমরা দেখি, জড় বিজ্ঞান মৃত্যু কেন হয়? ব্যাখ্যা করতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়! চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হতভম্ব হয়ে যাচ্ছেন, যখন একটি জীবের মৃত্যু ঘটছে। এই মৃত্যু ঘটলে আর ঐ মৃতদেহ কোনভাবে জীবিত করা যায়না। সমস্ত গবেষণা 'The End' এই শব্দের সামনে থমকে দাঁড়ায়!" সন্দীপ গোস্বামী, সর্বজনীন সংবিধান


"ব্যার্থতাকে যে অজুহাতের সাথে মেনে নেয়, সে বালক। ব্যার্থতা যার মধ্যে তীব্র অবসাদের সৃষ্টি করে, সে কাপুরষ। যিনি ব্যার্থতাকে সফলতায়, পরাজয়কে বিজয়ে এবং ঘৃণাকে ভালবাসায় পরিবর্তিত করতে পারেন, তিনি পুরুষ। আবার যে পুরুষের পৌরষবোধ যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রেরণা হয়ে ওঠে, তিনি মহাপুরুষ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভালবাসতে লাগে হৃদয়, ভালোবাসা পেতে লাগে ভাগ্য। অথচ চিরকাল হৃদয়বান মানুষেরা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়। প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস!" সন্দীপ গোস্বামী


"বিশুদ্ধ মস্তিষ্ক না থাকলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানা যায় না । আহত হৃদয় না থাকলে শ্রীচৈতন্যের মহাপ্রেম স্পর্শ করা যায় না ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সৎমানুষ বলতে আমরা বুঝি, নিরীহ নিপাট শান্তিপ্রিয় ভদ্র মানুষ । বুদ্ধিমান, কর্মঠ, প্রতিবাদী মানুষ দেখলে আমাদের অস্বস্তি বাড়তে থাকে । অথচ এটি সত্য যে, এই পৃথিবীতে সৎমানুষের থেকে বুদ্ধিমান কেউ হতে পারে না । সৎমানুষেরা জানেন যে, অসৎ পথে কত ধরণের বিপদ, সর্বনাশ আছে । তাই তাঁরা বুদ্ধিমত্তার সাথে অসৎ পথ পরিত্যাগ করেছেন ।" সন্দীপ গোস্বামী


"শিকার এবং শিকারীর ছলাকলার মধ্যে লুকিয়ে থাকে উভয়ের অস্তিত্বের লড়াই। এই লড়াইয়ের পরিণতি মর্মান্তিক!" সন্দীপ গোস্বামী


"ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম যে পাখিগুলি কী সুন্দর, বর্ণময়! হরিণ, বাঘ, এমনকি সাপগুলিও কী সুন্দর, রঙের কী বিচিত্র অপূর্ব সমাবেশ! মানুষগুলি কেন বর্ণহীন! ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট! তাই রঙিন পোশাকে নিজেদের বর্ণময় করে তুলেছে । তবে সবাই যে বলে, মানুষ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আসলে পাখি, হরিণ, বাঘ, সাপ হাসলে কি ভালোলাগে! মানুষের হাসিমুখের কোনও তুলনা নেই! রঙিন আভা ছড়ায়, বর্ণময় হয়ে ওঠে! বহিরঙ্গ নয় মানুষের অন্তরে রঙ আছে, তাই সে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! হাসিমুখের মানুষ দুনিয়ায় সবচেয়ে সুন্দর, বর্ণময় ।" সন্দীপ গোস্বামী"শিশুর মধ্যে যে গুণ আমায় আকর্ষণ করে, তা হোল সরলতা । নারীর নমনীয়তা, পুরুষের উদারতা, বৃক্ষের স্নিগ্ধতা, জীবজগতের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং রাতের তারাভরা আকাশ আমায় আকর্ষণ করে । এর মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতে পাই । স্পষ্ট বুঝতে পারি, তিনি আমাদের সাথে আছেন, ভালোবাসেন, আমাদের আনন্দ উপভোগ করছেন ।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"ভালোবাসা কখনও ব্যর্থ হয় না, ভালোবাসাহীন জগৎসংসার ব্যর্থ হয়ে যায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষার নাম, অনুভূতির ভাষা। এই ভাষায় দক্ষতা, একজন মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রাণের সাথে প্রাণ, প্রাণের সাথে প্রকৃতি, প্রাণের সাথে মহাপ্রাণের মিলনকেই আধ্যাত্মিকতা বলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"সব ধর্মের মূল কথা হল, জগতকে ভালোবাস এবং জগত থেকে ভালোবাসা গ্রহণ কর। এই সরল সত্যকে যারা বুঝতে পারেনা, তারা ধর্মহীন জটিল প্রকৃতির মানুষ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সময় দেয় যন্ত্রণা, সময় দেয় আনন্দ, সময় দেয় অবজ্ঞা, সময় দেয় স্বীকৃতি। সময়ের এই মাতব্বরি মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"স্বার্থপর মানুষদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা অসহিষ্ণু হয়ে যায় I কৌশলে জড়িয়ে দেয় দেশ, ধর্ম এবং জাতপাত I স্বার্থসিদ্ধি হয়ে গেলে তারা ঘুমিয়ে পরে, জ্বলতে থাকে দেশ, ধর্ম, জাতি এবং বোকা মানুষের দল I" সন্দীপ গোস্বামী


"বৃহৎ জীবন শুধুমাত্র বড় বড় কথা বলেনা, বড় বড় কাজ করে। কথা নয়, বৃহৎ কর্মের মাধ্যমে মহত্ত্বের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে থাকে।" সন্দীপ গোস্বামী

 


"জীবনে প্রচুর মানুষ আসবে, জীবনকে নাড়িয়ে দিয়ে চলেও যাবে । এদের মধ্যে কতিপয় মানুষ জীবনের সাথে মিশে যায় । তাদের ভালবাসায়, সোহাগে এবং শাসনে একটি সামান্য জীবন হয়ে ওঠে সম্মিলিত মহাজীবন । এই মহাজীবনের সুগন্ধ বুকে নিয়ে মানুষ অমরত্ব খুঁজতে থাকে । মৃত্যুবোধ, জীবনবোধের কাছে পরাস্ত হয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"নিচু মনের মানুষেরা বিনাকারণে অন্য মানুষের হৃদয় কষ্টে ভরিয়ে দেয়, অথচ উঁচু মনের মানুষেরা কোন কারণ ছাড়াই অন্য মানুষের হৃদয় আনন্দে উজ্জ্বল করে তোলে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যার সোনায় খাদ মেশানোর কথা, সে শিক্ষক । যার জেলখানায় থাকার কথা, তার হাতে প্রশাসন । যার রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় অপসংস্কৃতি, সে সংস্কৃতির ধারক-বাহক । আর যে মানুষটি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, তাঁর রাত কাটে দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে । ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে তরুণ প্রজন্ম । ওদের জানতেই দিলাম না, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী! প্রশাসন কাকে বলে! সংস্কৃতির অবদান কোথায়! বুঝতেই দিলাম না যে স্বপ্নহীন মানুষ জীবিত নয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীর সমস্ত সর্বনাশের কারণ নির্বোধ স্বার্থপর লোকেরা। তাদের নির্বুদ্ধিতায় শয়তানদের ষড়যন্ত্রে বুদ্ধিমান, জ্ঞানী মানুষদের জীবনেও বিপদ ডেকে আনে। ইতিহাস এই নির্বোধদের কোনদিন ক্ষমা করেনি।" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষের তৃতীয় হাতের নাম অজুহাত। অজুহাত যার বেশি চলে তার অন্য দুই হাত পঙ্গু হয়ে যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"মনের মতো ভাবনা অনেক সময় উৎকৃষ্ট ভাবনা নয় । যে ভাবনা মনকে উৎকৃষ্ট করে তোলে, আরও ভাবতে বাধ্য করে । সেই ভাবনাকে উৎকৃষ্ট ভাবনা বলে ।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"সর্বশক্তিমান ঈশ্বর চারটি জিনিস খুব ভালোবাসেন, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা, ভালোবাসা এবং শান্তি। যেখানে এই চারটি জিনিস থাকেনা, সেখানে তিনিও থাকেননা।" সন্দীপ গোস্বামী


"শুধু তুমি নও, পৃথিবীতে সবাই একা। পৃথিবীও একা।" সন্দীপ গোস্বামী


"বিজ্ঞানভিত্তিক ধর্মকে আধ্যাত্মিকতা বলা যায়। বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত সনাতনধর্মের গভীরতায় সেই আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানকে আত্মস্থ করা যায়। যা আচার-বিচার, নীতিকথা, সংস্কার প্রভৃতি থেকে সম্পুর্ন আলাদা এবং উপর তলার বিষয়। " সন্দীপ গোস্বামী


"সমগ্র জগৎসংসার সনাতনধর্মের অন্তর্গত। তাই এই চিরন্তন ধর্ম কোনোপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা এবং বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় না। এটাই এই ধর্মের মহত্ব। " সন্দীপ গোস্বামী


"ভালবাসা পাপ নয়, বরং মহাপুণ্য । হাজার তীর্থযাত্রার থেকেও মহান কর্ম । ভালবাসা ছাড়া মানুষের দান করার, আর কিছু নিজস্ব নেই ।" সন্দীপ গোস্বামী


"বিশুদ্ধ প্রেমকে ঈশ্বরপ্রাপ্তি বলা উচিত। যে প্রেমের পরশে বৃদ্ধের মুখে ভেসে বেড়ায় শিশুর মিষ্টতা।" সন্দীপ গোস্বামী


"পিতা-মাতার ভালবাসা হাঁটতে শেখায়, কবিদের ভালবাসা পথ চলতে শেখায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবনকে সর্বত্র খন্ডিত দেখা যায়। অখন্ড জীবনকে জানতে ভক্তিপথ গ্রহণ করতে হয়, যেখানে প্রকৃত কর্ম, জ্ঞান এবং যোগের মহামিলন ঘটেছে। " সন্দীপ গোস্বামী


"একদিন ভালোবাসা বলল, 'তুই মাটি হবি, আমি হব ফুল।' সেইদিন থেকে মাটিতে যে ফুল মুখ রাখে, সেইখানে গড়ে ওঠে ভালোবাসার তাজমহল। তুমি দেখেছ কী!" সন্দীপ গোস্বামী


"কে যে কার, কার যে কে

এটা বুঝতে বুঝতে

আমরা আপন থেকে পর হয়ে যাই!" সন্দীপ গোস্বামী


"নীতিশাস্ত্র বিমুখ কোনও মানুষ বা দেশ ধর্মশাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারে না। যদি হয়, তবে তা মিথ্যা, ছলনা।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অন্তর থেকে ভালোবাসতে শুরু করলে, জগৎসংসারের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাওয়া যায়। এটাই কৃষ্ণপ্রেমের জাদু।" সন্দীপ গোস্বামী


"সময় দেয় যন্ত্রণা, সময় দেয় আনন্দ, সময় দেয় অবজ্ঞা, সময় দেয় স্বীকৃতি। সময়ের এই মাতব্বরি মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষার নাম, অনুভূতির ভাষা। এই ভাষায় দক্ষতা, একজন মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষকে উচ্চস্তরে নিয়ে যায় তার কৃতজ্ঞতা বোধ, এটা কখনও অসম্মানের বিষয় নয়।" সন্দীপ গোস্বামী"প্রাণের সাথে প্রাণ, প্রাণের সাথে প্রকৃতি, প্রাণের সাথে মহাপ্রাণের মিলনকেই আধ্যাত্মিকতা বলে।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভালোবাসা এবং প্রেম এক নয়! হৃদয় কেন্দ্রিক আনন্দের উচ্ছ্বাসকে ভালোবাসা বলা যায়, যা ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু প্রেম হল আত্মাস্থিত পরমানন্দের নীরব প্রবাহ, যা চিরস্থায়ী।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ বিশ্বের দার্শনিক, আয়ুর্বেদিক, আধ্যাত্মিক এবং যোগ গুরু হিসাবে স্বীকৃত । শান্তিপ্রিয় ভারতবর্ষের প্রতি কেউ আঘাত হানলে সর্বশক্তিমানসহ সমগ্র জগৎ তার বিনাশ ঘটায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সময় দেয় যন্ত্রণা, সময় দেয় আনন্দ, সময় দেয় অবজ্ঞা, সময় দেয় স্বীকৃতি। সময়ের এই মাতব্বরি মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"জীবনে প্রচুর মানুষ আসবে, জীবনকে নাড়িয়ে দিয়ে চলেও যাবে । এদের মধ্যে কতিপয় মানুষ জীবনের সাথে মিশে যায় । তাদের ভালবাসায়, সোহাগে এবং শাসনে একটি সামান্য জীবন হয়ে ওঠে সম্মিলিত মহাজীবন । এই মহাজীবনের সুগন্ধ বুকে নিয়ে মানুষ অমরত্ব খুঁজতে থাকে । মৃত্যুবোধ, জীবনবোধের কাছে পরাস্ত হয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"স্বার্থপর মানুষদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা অসহিষ্ণু হয়ে যায় I কৌশলে জড়িয়ে দেয় দেশ, ধর্ম এবং জাতপাত I স্বার্থসিদ্ধি হয়ে গেলে তারা ঘুমিয়ে পরে, জ্বলতে থাকে দেশ, ধর্ম, জাতি এবং বোকা মানুষের দল I" সন্দীপ গোস্বামী


"বিজ্ঞান আমাদের বাঁচতে শেখায় এবং ধর্ম আমাদের ভালোবাসতে শেখায়। এইখানেই বিজ্ঞান এবং ধর্মের ঐতিহাসিক অবদান। " সন্দীপ গোস্বামী


"ভালোবাসা ছাড়া মানুষের দান করবার মতো, নিজস্ব আর কিছু নেই। বাদবাকি সবকিছু প্রকৃতির দান।" সন্দীপ গোস্বামী


"বৃহৎ জীবন শুধুমাত্র বড় বড় কথা বলেনা, বড় বড় কাজ করে। কথা নয়, বৃহৎ কর্মের মাধ্যমে মহত্ত্বের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে থাকে।" সন্দীপ গোস্বামী

 

"ষড়যন্ত্র যে নামকে মুছে ফেলতে চায়, প্রকৃতি সেই নামকে ততোধিক উজ্জ্বল করে তোলে!" সন্দীপ গোস্বামী


"নিচু মনের মানুষেরা বিনাকারণে অন্য মানুষের হৃদয় কষ্টে ভরিয়ে দেয়, অথচ উঁচু মনের মানুষেরা কোন কারণ ছাড়াই অন্য মানুষের হৃদয় আনন্দে উজ্জ্বল করে তোলে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীর সমস্ত সর্বনাশের কারণ নির্বোধ স্বার্থপর লোকেরা। তাদের নির্বুদ্ধিতায় শয়তানদের ষড়যন্ত্রে বুদ্ধিমান, জ্ঞানী মানুষদের জীবনেও বিপদ ডেকে আনে। ইতিহাস এই নির্বোধদের কোনদিন ক্ষমা করেনি।" সন্দীপ গোস্বামী


"যার সোনায় খাদ মেশানোর কথা, সে শিক্ষক । যার জেলখানায় থাকার কথা, তার হাতে প্রশাসন । যার রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় অপসংস্কৃতি, সে সংস্কৃতির ধারক-বাহক । আর যে মানুষটি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, তাঁর রাত কাটে দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে । ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে তরুণ প্রজন্ম । ওদের জানতেই দিলাম না, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী! প্রশাসন কাকে বলে! সংস্কৃতির অবদান কোথায়! বুঝতেই দিলাম না যে স্বপ্নহীন মানুষ জীবিত নয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষের তৃতীয় হাতের নাম অজুহাত। অজুহাত যার বেশি চলে তার অন্য দুই হাত পঙ্গু হয়ে যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"সর্বশক্তিমান ঈশ্বর চারটি জিনিস খুব ভালোবাসেন, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা, ভালোবাসা এবং শান্তি। যেখানে এই চারটি জিনিস থাকেনা, সেখানে তিনিও থাকেননা।" সন্দীপ গোস্বামী


"মনের মতো ভাবনা অনেক সময় উৎকৃষ্ট ভাবনা নয় । যে ভাবনা মনকে উৎকৃষ্ট করে তোলে, আরও ভাবতে বাধ্য করে । সেই ভাবনাকে উৎকৃষ্ট ভাবনা বলে ।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"শোন হে মানুষভাই, সবার উপরে হৃদয় সত্য, তাহার উপরে নাই।" সন্দীপ গোস্বামী"যিনি প্রকৃত মানুষ গড়েন, মানুষ তাকে ঈশ্বর মানেন।" সন্দীপ গোস্বামী


"শুধু তুমি নও, পৃথিবীতে সবাই একা। পৃথিবীও একা।" সন্দীপ গোস্বামী"শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান কোথায়! পড়লাম প্রচুর গ্রন্থ, বুঝলাম গবেষকদের গবেষণা । তবু জানতে পারলাম না, কোথায় সেই পবিত্র স্থান! মন দিয়ে পড়লাম চৈতন্য ভাগবত, চৈতন্য চরিতামৃত এবং বিজ্ঞানী সুরেন্দ্রনাথ গুইয়ের অভূতপূর্ব গ্রন্থ 'পাতালদেবের তত্ত্ব' । পাতালদেব একজন পরম বৈষ্ণব সাধক, উনার পূর্ব নাম ছিল নারায়ণ গোস্বামী । নবদ্বীপের বনচারী বাগানে উনার আশ্রম । হঠাৎ মাথায় এল এই জায়গার নাম বনচারী বাগান হল কেন! পাশে কেন দণ্ডপাণিতলা (যার হাতে দণ্ড থাকে), বৈদিক পাড়া এবং গোবিন্দ দিঘি! কেন পাতালসাধুর আশ্রম ঘিরে রাধারমণ কর্মকার, সরস্বতী দাস, গৌরীশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভারতবিখ্যাত কীর্তনীয়ার বাসস্থান! বারবার গেছি পাতালসাধুর আশ্রমে, একবার পাতালে নেমে দেখেছি তাঁর সাধনপীঠ । প্রশ্ন জাগে কেন তিনি বেছে নিলেন এই অখ্যাত স্থান! আমার হাতে কোন পাথুরে প্রমাণ নেই যে এই নিয়ে লিখব । তবু হৃদয় বারবার বলে ওঠে পাতাল বাবা কি খুঁজে পেয়েছেন শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান!" সন্দীপ গোস্বামী


"শিশুরা পৃথিবীকে দু'টি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করে । একটি মায়ের দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী খুব সুন্দর ঠিক তার মায়ের মতো । আর একটি হল পিতার দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামে ব্যস্ত। এরপর শিশুটি শিক্ষিত হতে থাকে, সে কবি, সাহিত্যিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীকে দেখতে শুরু করে । যে পৃথিবী প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে । খুলতে থাকে শিশুর চোখ, উন্মোচিত সেই দৃষ্টিতে সে দেখতে থাকে নিজের পৃথিবী যা তার একান্ত নিজস্ব । ধীরে ধীরে সে পরিণত মানুষে রূপান্তরিত হতে থাকে । মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"একটি দেশকে জানতে হলে সেই দেশের ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংবিধান ইত্যাদি জানার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হল সেই দেশে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। এখানেই লুকিয়ে আছে দেশটির ডিএনএ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবন যখন অন্ধকারে ঢেকে যায়, একটু আলোর সন্ধানে আমরা আশ্রয় নিই দার্শনিকদের প্রবচনে, জ্যোতিষীর দরবারে, মন্দির, মসজিদ, গির্জায় । বাস্তবে অন্ধকার আরও ঘনীভূত হয় । আমরা অবসাদে ভুগতে থাকি । এই দুঃসময়ে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা উচিত । আমি কে? জন্মতারিখের আগে আমি কোথায় ছিলাম? মৃত্যুতারিখের পর কোথায় যাব? কেন এই পৃথিবীতে জন্মালাম? আমার মনুষ্যজন্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সব প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজে পাব না । তবু বুঝতে পারব যে আমাদের মধ্যে নতুন আলো জ্বলে উঠছে, আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতার অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে । আমরা সাধারণ মানুষ থেকে মানব হয়ে উঠছি । আর যে নিজেই আলোর উৎস হয়ে ওঠে, তার সামনে কোন অন্ধকার থাকতে পারে কী!" সন্দীপ গোস্বামী


"অনেকে বলেন অর্থাভাবে ভালোবাসা খিড়কি দিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকে বলেন ভালোবাসার জন্য মনের মিল চাই, বিশ্বাস চাই, আরও কত কিছু....আমি বুঝি ভালোবাসার জন্য শুধু এক বুক বিশুদ্ধ ভালোবাসা চাই। এই ভালোবাসায় একজন নয়, দুইজন নয়, একসাথে সমগ্র জগৎকে ভালোবাসা যায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"সৎমানুষদের মধ্যে সরলতা, মহানুভবতার সাথে গোপন অহংকারও থাকে । সেই অহংকার এই ধরণের মানুষদের প্রধান চালিকাশক্তি । অনেক সময় তাঁদের এই অহংকারকে ভুল বুঝে আমরা আহত হয়ে থাকি । তবু একজন সৎমানুষের মৃত্যু হাজার ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা, প্রশাসক, লেখকের মতো গুণীজনদের মৃত্যু থেকে সমাজের গভীরে বেশি ক্ষত সৃষ্টি করে । সততার সাধনায় প্রতিভা নয়, চাই তীব্র ইচ্ছাশক্তি । আমরা ইচ্ছা করলেই সৎমানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারি ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবের রক্তহীনতার ক্ষেত্রে পুনরায় রক্ত দিলে সেই জীব সুস্থ হয়ে ওঠে। চক্ষু ট্রান্সমিশন, হার্ট ট্রান্সমিশন প্রভৃতি কার্যের মাধ্যমে দেহ যন্ত্রের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে দেহ যন্ত্রকে চালু করা যায়। এটি জড় বিজ্ঞানের সম্মানযোগ্য গবেষণা। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে ধর্মবিজ্ঞানীদের মাথা নিচু করলে কোন অসম্মান হয়না। এইসব চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনুষ্যরূপী দেবতা। তবু আমরা দেখি, জড় বিজ্ঞান মৃত্যু কেন হয়? ব্যাখ্যা করতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়! চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হতভম্ব হয়ে যাচ্ছেন, যখন একটি জীবের মৃত্যু ঘটছে। এই মৃত্যু ঘটলে আর ঐ মৃতদেহ কোনভাবে জীবিত করা যায়না। সমস্ত গবেষণা 'The End' এই শব্দের সামনে থমকে দাঁড়ায়!" সন্দীপ গোস্বামী, সর্বজনীন সংবিধান"ভালবাসতে লাগে হৃদয়, ভালোবাসা পেতে লাগে ভাগ্য। অথচ চিরকাল হৃদয়বান মানুষেরা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়। প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস!" সন্দীপ গোস্বামী


"ব্যার্থতাকে যে অজুহাতের সাথে মেনে নেয়, সে বালক। ব্যার্থতা যার মধ্যে তীব্র অবসাদের সৃষ্টি করে, সে কাপুরষ। যিনি ব্যার্থতাকে সফলতায়, পরাজয়কে বিজয়ে এবং ঘৃণাকে ভালবাসায় পরিবর্তিত করতে পারেন, তিনি পুরুষ। আবার যে পুরুষের পৌরষবোধ যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রেরণা হয়ে ওঠে, তিনি মহাপুরুষ।" সন্দীপ গোস্বামী


"শিকার এবং শিকারীর ছলাকলার মধ্যে লুকিয়ে থাকে উভয়ের অস্তিত্বের লড়াই। এই লড়াইয়ের পরিণতি মর্মান্তিক!" সন্দীপ গোস্বামী


"বিশুদ্ধ মস্তিষ্ক না থাকলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানা যায় না । আহত হৃদয় না থাকলে শ্রীচৈতন্যের মহাপ্রেম স্পর্শ করা যায় না ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সৎমানুষ বলতে আমরা বুঝি, নিরীহ নিপাট শান্তিপ্রিয় ভদ্র মানুষ । বুদ্ধিমান, কর্মঠ, প্রতিবাদী মানুষ দেখলে আমাদের অস্বস্তি বাড়তে থাকে । অথচ এটি সত্য যে, এই পৃথিবীতে সৎমানুষের থেকে বুদ্ধিমান কেউ হতে পারে না । সৎমানুষেরা জানেন যে, অসৎ পথে কত ধরণের বিপদ, সর্বনাশ আছে । তাই তাঁরা বুদ্ধিমত্তার সাথে অসৎ পথ পরিত্যাগ করেছেন ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভালোবাসা কখনও ব্যর্থ হয় না, ভালোবাসাহীন জগৎসংসার ব্যর্থ হয়ে যায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম যে পাখিগুলি কী সুন্দর, বর্ণময়! হরিণ, বাঘ, এমনকি সাপগুলিও কী সুন্দর, রঙের কী বিচিত্র অপূর্ব সমাবেশ! মানুষগুলি কেন বর্ণহীন! ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট! তাই রঙিন পোশাকে নিজেদের বর্ণময় করে তুলেছে । তবে সবাই যে বলে, মানুষ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আসলে পাখি, হরিণ, বাঘ, সাপ হাসলে কি ভালোলাগে! মানুষের হাসিমুখের কোনও তুলনা নেই! রঙিন আভা ছড়ায়, বর্ণময় হয়ে ওঠে! বহিরঙ্গ নয় মানুষের অন্তরে রঙ আছে, তাই সে প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! হাসিমুখের মানুষ দুনিয়ায় সবচেয়ে সুন্দর, বর্ণময় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"শিশুর মধ্যে যে গুণ আমায় আকর্ষণ করে, তা হোল সরলতা । নারীর নমনীয়তা, পুরুষের উদারতা, বৃক্ষের স্নিগ্ধতা, জীবজগতের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং রাতের তারাভরা আকাশ আমায় আকর্ষণ করে । এর মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতে পাই । স্পষ্ট বুঝতে পারি, তিনি আমাদের সাথে আছেন, ভালোবাসেন, আমাদের আনন্দ উপভোগ করছেন ।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"সব ধর্মের মূল কথা হল, জগতকে ভালোবাস এবং জগত থেকে ভালোবাসা গ্রহণ কর। এই সরল সত্যকে যারা বুঝতে পারেনা, তারা ধর্মহীন জটিল প্রকৃতির মানুষ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সমগ্র জগৎসংসার সনাতনধর্মের অন্তর্গত। তাই এই চিরন্তন ধর্ম কোনোপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা এবং বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় না। এটাই এই ধর্মের মহত্ব। " সন্দীপ গোস্বামী


"বিজ্ঞানভিত্তিক ধর্মকে আধ্যাত্মিকতা বলা যায়। বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত সনাতনধর্মের গভীরতায় সেই আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানকে আত্মস্থ করা যায়। যা আচার-বিচার, নীতিকথা, সংস্কার প্রভৃতি থেকে সম্পুর্ন আলাদা এবং উপর তলার বিষয়। " সন্দীপ গোস্বামী

সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী Philosophy of Sandip Goswami

 সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী 



"নীতিশিক্ষা ব্যতীত জীবনের সমস্ত শিক্ষা নিস্ফলা এবং বিপদজনক । সমস্ত শাস্ত্রের চালিকাশক্তি হল ন্যায়শাস্ত্র ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে দেশে কেউ মালিক না হয়ে চাকর হতে চায় । সেই দেশে বেকার গিজগিজ করে । বিশ্বসংসারের মালিকও সেই দেশের মানুষের প্রতি বিরক্ত হন । তাই সেই দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ, দুর্নীতি, দারিদ্র্য এবং অশান্তির শিকার হয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমায় যদি একটু বুঝতে পার, তবে আমায় কোনদিন ভুলতে পারবে না । আমায় যদি খুব বেশি বুঝে থাক, তবে আমার প্রেমে পড়ে যাবে । বোঝার চেষ্টাই মানুষকে ভালবাসতে শেখায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"তরুণ প্রজন্ম সত্যবাদী হয়ে উঠলে, তাদের সততা অসৎ পূর্বসূরিদের সৎপথে চলতে বাধ্য করবে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রেমিকের স্ত্রীর সাথে প্রেমিকা খুব সহজে মিশতে পারে, হাসতে পারে, সাজিয়েও দিতে পারে । প্রেমিক ছাড়া কেউ জানতেও পারবে না তাদের অতীত । অথচ কোন পুরুষ তার প্রেমিকার স্বামীর সাথে কিছুতেই সহজ হতে পারেনা, বুকের ভিতর চুরমার হয়ে যায়, পালিয়ে বাঁচে । এরপরও কী বলা যায়, পুরুষ ভালবাসতে জানেনা, শুধুই ভোগী!" সন্দীপ গোস্বামী


"রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প নয় । রাজনীতি মানুষের হৃদয় জয় করার শিল্প ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠক-পাঠিকার রুচি অনুযায়ী কবি, লেখকরা লিখতে শুরু করলে, অর্থনীতি লাভবান হলেও কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বসাহিত্য অন্ধ হয়ে যাবে । মানুষের চিরাচরিত ভালোলাগাকে পরিবর্তিত করার প্রচেষ্টাই একজন সৃজনশীল মানুষের সাধনা ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীর সমস্ত হিংসা, সর্বনাশের মূলে থাকে পুরুষ এবং সারাজীবন ভুগতে থাকে নিষ্পাপ নারী এবং শিশু ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে ধর্ম রক্তাক্ত, সেই ধর্ম পবিত্র হয় কি করে! সেই অর্থে পৃথিবীর প্রায় কোন ধর্ম আজও পবিত্র হতে চায় নি ।" সন্দীপ গোস্বামী


"দারিদ্র্য অপরাধ নয় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সততার প্রতীকও বটে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষের মহত্ত্ব সে মানুষ, অরণ্য নয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে মুহূর্তে কবিতার 'আমি', পাঠকের 'আমি' হয়ে উঠবে । সেই শুভক্ষণে কবিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"তুমি কাউকে প্রকৃত ভালবাসলে, হাজার মাইল দূর থেকেও তার সমস্ত কর্মকাণ্ড ছবির মতো দেখতে পাবে । যা একশো শতাংশ সত্য । প্রথমে অবাক হলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে, প্রকৃত ভালোবাসা কাকে বলে!" সন্দীপ গোস্বামী


"বন্ধুর মতো বন্ধু পেলে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা যাওয়ার প্রয়োজন হয় না । মনের মানুষ খুঁজতে মানুষ এইসব পবিত্র স্থানে গিয়ে থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"নারীকে ঈশ্বর চিনতে পারেন না, পুরুষ চিনতে পারে না, এমনকি অন্য নারীও চিনতে পারে না । অথচ একজন নারীকে শিশুরা চিনতে কখনও ভুল করে না ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে ভালোবাসে সে অযথা জ্ঞান দেয়, যে ভালবাসেনা সে কথায় কথায় আঘাত দিয়ে থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"নিজের অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা উচিত যে, এই বিশ্বের প্রতিটি মানুষ জন্মগত ভালো মানুষ, এমনকি"প্রেমে একটাই কাঁটা, প্রেমিক বা প্রেমিকার অন্তরে কল্পনাপ্রসূত নিরন্তর অভিমান । প্রেমে উদারতা প্রধান শক্তি ।" সন্দীপ গোস্বামী


"তুমি খুব ভালো, এই কথাটি বললে সেই মানুষটির অন্তরের ভালো মানুষটি জেগে ওঠে । সে ভালো হতে থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যে দেশের যুবশক্তির অন্তরে নীতিশিক্ষা, সংস্কার, সৎচরিত্র, দেশপ্রেম এবং মানবপ্রেম নেই ; যে যুবসমাজ আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, ভোগী এবং অসৎ ; সেই দেশের প্রবল যুবশক্তি দেশের সম্পদ নয় বরং সর্বনাশ!" সন্দীপ গোস্বামী


"কেউ দেখুক বা না দেখুক, বুঝুক বা না বুঝুক, গ্রহণ করুক বা না করুক, সত্য চিরন্তন, উজ্জ্বল এবং সুন্দর ।" সন্দীপ গোস্বামী


"অযথা শান্ত মানুষদের বিরক্ত করা উচিত নয় । ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের খুনি হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা ।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রকৃত প্রেমে অভিসার কখনও ব্যভিচার হয়ে ওঠে না । প্রেমিক-প্রেমিকার পবিত্র মহামিলন হল অভিসারের সৌন্দর্য । সেই সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ প্রকাশ কবি জয়দেব গোস্বামী বিরচিত 'গীতগোবিন্দ'-র অপূর্ব শ্লোকগুলির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যেখানে সত্য বিরাজমান, সেখানে নীরবতা থাকলেও বিরোধিতা থাকে না। মিথ্যা হল সমস্ত বিরোধের সূতিকাগৃহ ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যার কণ্ঠ শুনলে দেহ কেঁপে ওঠে, চোখ অস্থির হয়ে যায়, হৃদয়ে অজ্ঞাত আনন্দের ঢেউ খেলে যায় এবং বাক রুদ্ধ হয়ে যায় । জেনে রেখো, তুমি তার প্রতি অনুরক্ত ।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রতিদিন সকালে উঠে যদি আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, আজ কাউকে কষ্ট দেব না, আঘাত দেব না । সেইদিন পৃথিবীর নিরানব্বই শতাংশ যন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে । কারণ প্রকৃতি, অন্যান্য প্রাণী, দুর্ভাগ্য ইত্যাদি থেকে মানুষ এক শতাংশেরও কম যন্ত্রণা প্রতিদিন পেয়ে থাকে, বাদবাকি মনুষ্যকৃত যন্ত্রণা ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ছোটবেলা থেকে যা সঠিক বলে মনে হয়েছে, তাই বলে ফেলেছি । এর জন্য অনেক সময় চরম মূল্য দিতে হয়েছে । কত বোকা বোকা সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে । কত জন আমায় অহংকারী ভেবেছে । এই চরিত্রের জন্য কারোর কাছ থেকে বাহবা পাইনি । অনেকবার ভেবেছি নিজেকে বদলে ফেলব, হত্যা করব আমার কবিমনকে । অপ্রিয় সত্য আর বলব না । এখানেও ব্যর্থ হলাম । আসলে মনের সত্য বলতে না পারলে, নিজেকে মৃত মনে হয় । নিজের দেহ থেকে পচনের গন্ধ নাকে আসে, আমার দমবন্ধ হয়ে যায়..." সন্দীপ গোস্বামী


"রামায়ণে সীতার জন্য ভগবান রামচন্দ্র যুদ্ধ করেছিলেন, প্রচুর নিরীহ বানর এবং রাক্ষস সেনা মারা যায় I কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতিতে প্রচুর নিরীহ সেনা মারা যায় I যুদ্ধে জিতেও রামচন্দ্র সীতাকে পেলেন না, শ্রীকৃষ্ণের যদু বংশ ধ্বংস হয়ে গেল I একে বলে কাব্যিক বিচার, যেখানে ভগবানও ক্ষমা পান না I যুদ্ধ যারা করেন, তাদের একটাই পরিচয় 'হত্যাকারী' I" সন্দীপ গোস্বামী


"খারাপ মানুষেরাও কোন সময় ভালো ছিল । পরিবেশ এবং পরিস্থিতির ইতিবাচক প্রভাবে আবার তারা ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রতিদিন সকালে উঠে যদি আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, আজ কাউকে কষ্ট দেব না, আঘাত দেব না । সেইদিন পৃথিবীর নিরানব্বই শতাংশ যন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে । কারণ প্রকৃতি, অন্যান্য প্রাণী, দুর্ভাগ্য ইত্যাদি থেকে মানুষ এক শতাংশেরও কম যন্ত্রণা প্রতিদিন পেয়ে থাকে, বাদবাকি মনুষ্যকৃত যন্ত্রণা ।" সন্দীপ গোস্বামী


"সুন্দরকে যে ভালবাসে, সে প্রেমিক । সুন্দরকে যে বলপূর্বক বা কৌশলে হরণ করতে চায়, সে অপরাধী ।" সন্দীপ গোস্বামী

সন্দীপ গোস্বামীর সন্দীপনী দর্শন Philosophy of Sandip Goswami

 সন্দীপ গোস্বামীর দর্শন সন্দীপনী 



"আনুমানিক পাঁচ হাজার বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন 'আমিই ভগবান', দুই হাজার বছর আগে যীশুখৃষ্ট বলেছিলেন, 'আমি ভগবানের পুত্র', দেড় হাজার বছর আগে হজরত মহম্মদ বলেছিলেন, 'আমি ভগবানের দূত'। মনীষীদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই, তাহলে অনুসরণকারীদের মধ্যে এত বিভেদ কেন!!!" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষটি আকাশ ছূঁতে চেয়েছিল, এখন নিজেই আকাশ হয়ে গেছে। আকাশ কি শুধু আমাদের মাথার উপরে থাকে! যার নাম নীলাকাশ। আকাশ মাটিতেও থাকে, যার নাম সবুজ আকাশ। আকাশ থাকে পাতালে, আকাশ থাকে অন্তরে...আকাশ একটি বোধ, যে বোধ মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, ঘুম পাড়ায়, কখনও মুক্তি হয়ে ওঠে...আকাশ সেই সত্য, যেখানে আমরা গড়ে তুলি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার স্বর্গ।" সন্দীপ গোস্বামী


"কুৎসিত মনের মানুষ কখনও সুন্দর হোতে পারেনা, তেমনি সুন্দর মনের মানুষ কখনও কুৎসিত হোতে পারেনা। সৌন্দর্যের প্রতীক একমাত্র মানুষের মন। যার মন যেমন তার রূপ তেমন, আজ না হোক কাল এটাই প্রমাণিত সত্য হয়ে প্রকাশ পায়।" সন্দীপ গোস্বামী


"রবীন্দ্রসংগীত সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয়, কবির কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটকের জনপ্রিয়তা প্রবল, কবির চিত্রকলার প্রশংসা খুব শুনতে পাই। তবু আমি বিশ্বাস করি, কবির শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি তাঁর মৌলিক, উত্তরাধুনিক প্রবন্ধসাহিত্য। শুধু এই প্রবন্ধগুলি যদি একজন মানুষ আত্মস্থ করতে পারেন, তবে তিনি জগতের অর্ধেক জ্ঞান অতিসহজে নিজের করে নিতে পারেন। কী মহান দান!" সন্দীপ গোস্বামী


"যেদিন মানুষ বুঝতে পারবে যে সে শুধুমাত্র মানুষের আত্মকেন্দ্রিক অহমিকায় সৃষ্টি একটি দেশের নাগরিক মাত্র, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে এই পৃথিবীর বাসিন্দা। এই পৃথিবী তার আসল মাতৃভূমি। বিশ্ববাসী তার জন্মগত আত্মীয়। পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ প্রকৃতি বিশ্ববাসীর মঙ্গলের জন্য নির্মাণ করেছে। অথচ কিছু মানুষের চতুরতায় সে আজ বঞ্চিত। ভিন্ন ভিন্ন দেশ নয়, ভিন্ন ভিন্ন গ্রহ তার প্রতিবেশি। প্রকৃতি বারবার ম্যানমেড সীমানা মুছে দিয়ে বলে, ওরে তোরা মানুষ হ! রাষ্ট্রবাদী নয়, মানবতাবাদী হোয়ে ওঠ!" সন্দীপ গোস্বামী


"নীরবতা অনেক কথা বলে। সেই কথা শুনতে কান নয়, চাই আস্ত একটি হৃদয়! সেই হৃদয়ে বেজে ওঠে নিসর্গের সংগীত, মহাজাগতিক অর্কেস্ট্রা!" সন্দীপ গোস্বামী


"শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন চরিত থেকে কত মানুষ কত কিছু নিরন্তর শিখে চলেছে। কেউ খুঁজে পায় ভক্তি আন্দোলন, কেউ তাঁর আদর্শের অনুসারী হয়ে ওঠে। কেউ মহাপ্রভুর শিক্ষায় নবজাগরণ দেখতে পায়, কেউ পায় রাধারাণীর বিরহ অশ্রু...তবে আমি কেন অনুভব করি অন্যকিছু! তিনি যেন বারবার আমাদের ভালোবাসতে শেখাচ্ছেন, শেখাচ্ছেন ভালোবাসা কিভাবে নিষ্কাম প্রেমে রূপান্তরিত হয়। নিজেকে ভালোবাস, জগতকে ভালোবাস, ভালোবাসায় ভরে যাক এই অমূল্য মানবজীবন...কি সুন্দর তাই না!" সন্দীপ গোস্বামী


"ইতিহাস দুইভাবে লেখা হয়। প্রথমটি কোন জাতির বা মানুষের উল্লেখযোগ্য কর্ম, আত্মত্যাগ, মেধা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়, যা স্বাভাবিক ইতিহাস। দ্বিতীয়টি লিখিত হয় চলমান ইতিহাসকে অস্বীকার করে, অসম্মান করে। অজ্ঞ বা জ্ঞানীরা লিখতে চায় নতুন ইতিহাস। ইতিহাস রচনায় এই দুই ধরনের প্রচেষ্টা যুগে যুগে চলে আসছে। সত্যের মধ্যে মিথ্যা, মিথ্যার মধ্যে সত্য । এই অর্ধসত্য ইতিহাস অধ্যয়ন করে কেউ গবেষক হন, কেউ অধ্যাপক! তাই ক্ষমতা বারবার নতুন ইতিহাস লেখার চেষ্টা করে, বদলায় শহরের নাম, রাস্তার নাম, স্টেশনের নাম এমনকি ভগবানের নাম....এমন শক্তিশালী আমরা! কালকে অস্বীকার করে লিখে ফেলি মহাকালের কাহিনী...যা ইতিহাস নয় শুধুই আখ্যান!" সন্দীপ গোস্বামী


"প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব স্তর বা লেভেল আছে । সেই লেভেলের নীচে সে নামতে পারে না, নামা উচিতও নয় । যারা সব স্তরের মানুষের সাথে মিশতে পারেন, তারা হয় কবি, নয় ব্যক্তিত্বহীন মানুষ ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন যেমন সাগরের মতো বিস্তৃত, ঢেউ হয়ে ভিজিয়ে দেয় বছরের পর বছর মানুষের মননশীল আবেগকে...তবু তাঁর দুইচোখ থেকে কখনও ঝরে পড়ে আদর্শ পুরুষের অশ্রু...সেই অশ্রুকে না জানলে, অনুভব না করলে অপূর্ণ থেকে যায় বাঙালির বিদ্যাসাগর চর্চা..." সন্দীপ গোস্বামী"ইতিহাস দুইভাবে লেখা হয়। প্রথমটি কোন জাতির বা মানুষের উল্লেখযোগ্য কর্ম, আত্মত্যাগ, মেধা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়, যা স্বাভাবিক ইতিহাস। দ্বিতীয়টি লিখিত হয় চলমান ইতিহাসকে অস্বীকার করে, অসম্মান করে। অজ্ঞ বা জ্ঞানীরা লিখতে চায় নতুন ইতিহাস। ইতিহাস রচনায় এই দুই ধরনের প্রচেষ্টা যুগে যুগে চলে আসছে। সত্যের মধ্যে মিথ্যা, মিথ্যার মধ্যে সত্য । এই অর্ধসত্য ইতিহাস অধ্যয়ন করে কেউ গবেষক হন, কেউ অধ্যাপক! তাই ক্ষমতা বারবার নতুন ইতিহাস লেখার চেষ্টা করে, বদলায় শহরের নাম, রাস্তার নাম, স্টেশনের নাম এমনকি ভগবানের নাম....এমন শক্তিশালী আমরা! কালকে অস্বীকার করে লিখে ফেলি মহাকালের কাহিনী...যা ইতিহাস নয় শুধুই আখ্যান!" সন্দীপ গোস্বামী


"ভক্তের কাছে তিনি ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। আবার গবেষকদের কাছে, তিনি বিশ্বে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক। এমন মহৎ উদাহরণ পৃথিবীতে নেই।"সন্দীপ গোস্বামী


"যদি দেখ কোন ব্যক্তির থেকে আঘাত পেয়ে তোমার চোখে জল এসে গেছে, কিন্তু বুকে আগুন জ্বলছে না । জেনে রেখো, সেই ব্যক্তিকে তুমি অসম্ভব ভালবাস । আবার যদি দেখ, কাউকে বারবার আঘাত দিলেও সে প্রত্যাঘাত করছে না, জেনে রেখো সে তোমায় অসম্ভব ভালোবাসে নয়তো তোমার চরম সর্বনাশ করার জন্য অপেক্ষা করছে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"মানুষ বিচিত্র কারণে বই পাঠ করে, কেউ বৃহৎ বৃহৎ বই মুখস্থ করে কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই মহাপরিশ্রমের পিছনে বইয়ের প্রতি ভালোবাসার থেকে অনেক আকর্ষণ ভবিষ্যতের স্বচ্ছলতা! কেউ সময় কাটানোর জন্য বই পড়েন, কেউ পণ্ডিত সাজার জন্য কোটেশন মুখস্থ করে। নির্মল আনন্দ এবং জ্ঞানের জন্য কেউ প্রাচীন গ্রন্থ পাঠ করেন। কেউ পড়েন কম, লেখেন অনেক বেশি। বই অনেকটা কাকের মতো আমাদের মস্তিষ্কে নিরন্তর জমতে থাকা আবর্জনা প্রতিনিয়ত পরিস্কার করতে থাকে...বিশ্বের সব বই যদি নষ্ট হয়ে যায়, বিশ্ববাসী হয়ে যাবে প্রকৃত অন্ধ...." সন্দীপ গোস্বামী


"জীবন রহস্যময় ! রহস্যময় এই জীবনের গভীরে লুকিয়ে থাকে সরলতা, ভালোবাসা, অশ্রু । জীবনের বহিরঙ্গে যার ছোঁয়া পাওয়া দুষ্কর । দার্শনিক ব্যাখ্যা অনেক থাকলেও জীবনকে বুঝতে হয় জীবন দিয়ে, প্রাণের সাথে প্রাণের মেলবন্ধনে জীবন হয়ে ওঠে প্রাণময় । মিথ্যা দিয়ে আমরা গড়ে তুলি ক্ষমতাবান, কিন্তু সত্যের আলোয় সে হয়ে যায় ধুলোবালি । আবার পৃথিবীর পথ হাঁটতে হাঁটতে মানুষের স্মৃতিতে থেকে যান কেউ কেউ, যাদের সামাজিক বিচারবুদ্ধি দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না । প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে জানা যায় সেইসব মানুষের অনুভুতি, বিচার, সংস্কার ।" সন্দীপ গোস্বামী, তিনশো সন্দীপনী ও পথ


"শিশুরা পৃথিবীকে দু'টি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করে । একটি মায়ের দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী খুব সুন্দর ঠিক তার মায়ের মতো । আর একটি হল পিতার দৃষ্টিকোণ, যেখানে পৃথিবী অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামে ব্যস্ত। এরপর শিশুটি শিক্ষিত হতে থাকে, সে কবি, সাহিত্যিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীকে দেখতে শুরু করে । যে পৃথিবী প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে । খুলতে থাকে শিশুর চোখ, উন্মোচিত সেই দৃষ্টিতে সে দেখতে থাকে নিজের পৃথিবী যা তার একান্ত নিজস্ব । ধীরে ধীরে সে পরিণত মানুষে রূপান্তরিত হতে থাকে । মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"যখন অন্ধকারে ডুবে যাবে তোমার চারদিক, ভয় পেও না । চোখ বুজে তিনবার বোল 'মা' । তোমার মা যেখানেই থাকুন, শুনতে পাবেন তোমার ডাক । তোমার কানে ভেসে আসবে 'সোনা, আমি আছি তোর সাথে…" সন্দীপ গোস্বামী


"যে মানুষ সারাজীবন ধরে মাতা-পিতা, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা এবং মানুষকে ভালবাসতে পারে, পরমপিতার আশীর্বাদে তার জীবনে সমস্ত প্রতিকূলতা অনুকূল হয়ে যায় এবং তার জীবন পরমশান্তিতে অতিবাহিত হয় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"চেনাজানা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হোতে লাগে কৌশল। অচেনা, অজানা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হোতে লাগে ক্যারিশমা। কৌশল এবং ক্যারিশমার প্রকৃতি সর্বদা বিপরীতমুখী।" সন্দীপ গোস্বামী


"এই সময়ের পৃথিবীতে তুমি দুটি জিনিস অন্যদের থেকে পাবে । হিংসা অথবা করুণা । তোমার সফলতায় হিংসা এবং ব্যর্থতায় করুণা । তাই দুঃখ পেও না । করুণা নিয়ে বেঁচে থাকা অর্থহীন । তুমি ভালোবাসার রাজা বা রাণী হয়ে ভালোবাসা বিলিয়ে যাও, ভালোবাসার ভিখারি হতে চেও না । একদিন তোমার ভালোবাসায় লেখা হবে মানবজাতির ভবিষ্যৎ, তুমি হবে ইতিহাস ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্য হৃদয়ে পরমানন্দ সৃষ্টি করে । সর্বাঙ্গে আনন্দের ঢেউ খেলতে থাকে । অথচ শ্রীচৈতন্যের সান্নিধ্য অন্তরে প্রবল দহন সৃষ্টি করে । দুই নয়ন ভেসে যায় বেদনার অশ্রুতে...শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে শ্রীচৈতন্যকে আত্মস্থ করা কয়েক কোটি গুণ কঠিন ।" সন্দীপ গোস্বামী


"কন্যা হয়ে জন্মানো গর্হিত অপরাধ! তাহলে পুরুষ হয়ে জন্মানো কি মহাপুণ্য! নারীরা নারীদের ভালোবাসবে, পক্ষে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পুরুষের পক্ষে কোন পুরুষ চোখে পড়েনি! শিশুবেলায় একজন পুরুষ মাকে পিতার চেয়ে কয়েকশো গুণ বেশি ভালোবাসে, আপন করে নেয়। যৌবনে স্ত্রীর দুইহাত জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকে। কন্যাসন্তান তার নয়নের মণি। দুইহাত তুলে আশীর্বাদ করে, "মা, তুই রাজরাজেশ্বরী হবি। " সেই পিতা পুত্রসন্তানকে অভিশাপ দেয়,"তোর কপালে চরম যন্ত্রণা আছে।" অবশ্য আশীর্বাদ সুপার ফ্লপ হয়, কিন্ত অভিশাপ চূড়ান্ত সফল হয়। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পুরুষ গাধার জীবন নিয়ে কাটিয়ে যায়। একা, একমেবদ্বিতীয়ম!" সন্দীপ গোস্বামী


"অনেক সময় কিছু না বলাও অনেক কিছু বলা...জীবন বড় অদ্ভুত এবং অপূর্ব! আমরা খণ্ডকে নিয়ে এগিয়ে চলি সমগ্রের দিকে, সম্পূর্ণের আশায়...একসময় খণ্ড খণ্ড জীবনবোধ মিলে সৃষ্টি হয় সমগ্র মানবজাতির জীবনবোধ... সেই জীবনবোধ বিচিত্ররূপে শোনায় সম্পূর্ণভাবে মানুষের জীবনবৃত্তান্ত। লেখা হয় মানুষের সাহিত্য...আমরা কেউ মিথ্যা নই, সবাই সত্য...সত্যান্বেষী!" সন্দীপ গোস্বামী


"নিম্নশ্রেণীর মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এরা শুধু নিজের ভালো চায় না, একইসাথে অন্যের ক্ষতিও প্রবলভাবে চায়। কি অদ্ভুত মনোবৃত্তি!" সন্দীপ গোস্বামী


"ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গবেষণার বিষয় নয়, উপলব্ধির বিষয় । তাই গবেষণায় বিভিন্ন কৃষ্ণ নামের ব্যক্তি উঠে আসে, কিন্তু উপলব্ধিতে এক এবং অদ্বিতীয় শ্রীকৃষ্ণকে খুঁজে পাই ।" সন্দীপ গোস্বামী


"ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা, নতুন কিছু তোমার কাছে চাই না । শুধু যা দিয়েছ তা কেড়ে নিও না প্রভু ।" সন্দীপ গোস্বামী


"অনাহার দুই প্রকার। এক, যাদের পেট ভরা অথচ খিদে মেটে না। এদের মধ্যে কাউকে দেখেছি বিরিয়ানি খেতে খেতে মেহনতি মানুষের ঐক্য লেখে! এদের বলে আঁতেল! আর এক, যারা হাসি মুখে সারাদিন পরিশ্রম করে পরিবারের অন্নসংস্থান করে। এঁরা মেহনতী মানুষ, প্রকৃতির সন্তান। এঁদের সমস্ত সমস্যার কারণ আমরা, আমরা কোনদিন অন্তর থেকে চাইনি যে ওরা আমাদের মতো নকল খিদে নিয়ে জীবন কাটাক। ওরা আমাদের মতো মিথ্যাচার করুক!" সন্দীপ গোস্বামী


"আমায় যদি একটু বুঝতে পার, তবে আমায় কোনদিন ভুলতে পারবে না । আমায় যদি খুব বেশি বুঝে থাক, তবে আমার প্রেমে পড়ে যাবে । বোঝার চেষ্টাই মানুষকে ভালবাসতে শেখায় ।" সন্দীপ গোস্বামী


"রবীন্দ্রসাহিত্যকে মানব অনুভূতির মিউজিয়াম বলা যায়, যা মানুষের লুপ্তপ্রায় অনুভূতিকে পুনর্জীবন দান করে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান নিজেকে ভালোবাস এবং জগৎসংসারকে ভালোবাস। এই জ্ঞান যিনি অর্জন করেছেন তিনি মহাজ্ঞানী, তাঁর আর কোন জ্ঞানের প্রয়োজন নেই।" সন্দীপ গোস্বামী


"পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হল অনুভূতির ভাষা । এই ভাষায় দক্ষতা মানুষকে মানবিক করে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জিনিয়াস এবং ট্যালেন্টের মধ্যে বেসিক পার্থক্য হল, ট্যালেন্ট তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ ১০০% দিতে পারে, আর জিনিয়াস অসীম। ট্যালেন্টের পরীক্ষার রেজাল্ট পিতা, মাতা, শিক্ষকদের আশানুরূপ হয়। কিন্তু জিনিয়াস সর্বদা প্রথাগত পরীক্ষায় এমন রেজাল্ট করে যা সবাইকে ভালো বা মন্দ, দুই দিক থেকে চমকে দেয়! ট্যালেন্ট খুব বুদ্ধিমান হয়, তাই এরা জীবনে নিশ্চিত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ জিনিয়াস খুব মুডি হয়, এরাই স্বনামধন্য নোবেলজয়ী বা পাগলাটে কবি,সাহিত্যিক, শিল্পী হয়ে নতুন ইতিহাস লেখে।" সন্দীপ গোস্বামী


"তুমি ভালো আছ তাই আমার অস্বস্তি হচ্ছে, এর নাম পরশ্রীকাতরতা। আমি তোমার কাছে থেকে ভালো থাকতে চাই, এর নাম মায়া। তুমি ভালো আছ এটাই আমার আনন্দ, এর নাম ভালোবাসা।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমার ঈশ্বর মন্দির, মসজিদ, গির্জায় থাকেননি, তিনি থাকেন বিদ্যালয়ে, রক্তদান শিবিরে, ফুলের বাগানে, পাঠাগারে, শিশুর হাসিতে,মানুষের মেলায়, ভালোবাসায়, আনন্দে, স্নেহে, শ্রদ্ধায়, অন্তরাত্মায়..." সন্দীপ গোস্বামী


"সৎপথে চলার উপদেশ অনেকেই দিয়ে থাকেন, কিন্তু সৎপথ কাকে বলে এটা পরিষ্কার করে কেউ বলেন না । আমার কাছে সৎপথ হল, এমন খাদ্য খেতে হবে যার মধ্যে শরীরের উপযোগী খাদ্যগুণ থাকে, এমন পোশাক পরতে হবে যা অন্যকে লজ্জা দেবে না, এমন বাড়ি বানাতে হবে যার ভিত মজবুত হয়, এমন গ্রন্থ পড়তে হবে যার থেকে আলোকিত হওয়া যায়, এমন কর্ম করতে হবে যা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষেরও মঙ্গল করবে, সংসারে পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা, স্ত্রী বা স্বামীকে ভালবাসা এবং সন্তানকে স্নেহ করতে হবে, মহিলাদের সামনে নম্রতার সাথে কথা বলতে হবে, দেশের আইনকে প্রবল শক্তিশালী ভেবে শ্রদ্ধা করতে হবে, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ভালবাসতে হবে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"অনেকে ভাবেন পুরুষেরা কাঁদতে পারেনা, পুরুষদের কোন অনুভূতি নেই। কেউ ভাবেন পুরুষদের কাঁদতে নেই, পুরুষ হৃদয়কে পাষাণ হতে হয়। এরকম কত বোকাবোকা দর্শন আমাদের শেখানো হয়! কেন যে এরা বুঝতে চায় না, অনুভূতি নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, পশুপাখি, বৃক্ষ ইত্যাদি সবাই জন্মগত পেয়ে থাকে। তবে এই অনুভূতির স্কেল আছে, কারোর স্থূল অনুভূতি আবার কারোর সূক্ষ্ম অনুভূতি। বোধ অনুযায়ী অনুভূতির উচ্চ, মধ্য, নিম্ন গতির প্রকাশ পায়। সাহিত্য এবং সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বোধ সৃষ্টি করে। জাগতিক বোধ, মানবিক বোধ পেরিয়ে পারমার্থিক বোধে উত্তরণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনুভূতিও সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতম হতে থাকে। প্রশ্ন একটাই কত শতাংশ মানুষ এই প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করছে! বোধহীন, অনুভূতিহীন মানুষ কি সত্যি মানুষ!" সন্দীপ গোস্বামী


"পিতা-মাতা বা মা-বাবা এঁদের একসাথে দেখতে হয়, একসাথে ভালোবাসতে হয়। যতই আমরা ফ্লিমের জুটি নিয়ে আলোচনা করি, তবু সন্তানের অন্তরে পিতা-মাতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ জুটি আর কেউ হতে পারেনা। নারী এবং পুরুষের সাম্য নিয়ে অনেক আলোচনা শোনা যায়, নারীবাদীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পুরুষদের মধ্যেও নারীদের দুর্বল ভাবার প্রবনতা সত্যি হাস্যকর! ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি নারী, নারীকে তিনি উপহার দিয়েছেন জীব সৃষ্টির অনুপম ম্যাজিক! এই আশীর্বাদের জন্য জীবজগতে প্রকৃতি, পুরুষ এবং পরমাত্মার মহামিলন শুধুমাত্র নারী উপভোগ করতে পারেন। এরজন্য বিশ্বের সকল মা প্রকৃতিগতভাবে সাধিকা। তাই নারী এবং পুরুষের কোন তুলনা হয়না। পুরুষের চেয়ে কোটি গুণ ভাগ্যবতী নারী ! তাই বলে কি পরমপিতা পুরুষদের কিছুই দেয়নি! পুরুষদের দিয়েছেন মুক্ত মন, মুক্তির আনন্দ। অথচ ঈশ্বর নারীকে সর্বোত্তম শক্তির সাথে দিয়েছেন সংসার, বন্ধন, মায়া! তাই মুক্তির আনন্দ নারী চাইলেও, গ্রহণ করতে জন্মগত অক্ষম।" সন্দীপ গোস্বামী 


"যখন আমার রবে না গন্ধ, উপস্থিতি না রবে

আশার বাতি জ্বলবে তখন, কবিতা স্মৃতি হবে।"

সন্দীপ গোস্বামী


"সত্য কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ আমায় বলেছে 'তুমি যাহা বিশ্বাস কর, তাহা সত্য', কেউ বলেছে 'সবাই যাহা বিশ্বাস করে, তাহা সত্য', কেউ বলেছে, 'সবার উপরে মানুষ সত্য' ইত্যাদি। কথাগুলি ভালো লাগলেও আমায় তৃপ্ত করতে পারেনি। এরপর শ্রীমদ্ভাগবদগীতা অধ্যয়ন শুরু করলাম। আজ আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ভগবান প্রদত্ত শ্রীগীতা পূর্ণসত্য, এর প্রতিটি অক্ষর সত্য, শ্রীগীতার পথ চিরসত্য। এর বাইরে সবকিছু অর্ধসত্য অথবা মিথ্যা।" সন্দীপ গোস্বামী


"মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যকে নিয়ে গবেষণা করতে করতে যেদিন দুই নয়ন থেকে অবিরাম অশ্রু ঝরে পড়বে, নিজেকে মহাশূন্যে ভেসে বেড়াতে দেখবেন,সেইদিন বুঝবেন শ্রীচৈতন্যের জীবনচরিত কাকে বলে....তথ্য নয়, আধ্যাত্মিক প্রেম এবং জাগতিক দেহের মধ্যে অন্তঃক্রীড়া আস্বাদন বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রাণশক্তি। প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে মহাপ্রাণের এই যাদু তাঁর অহেতুক কৃপা না পেলে অসম্ভব। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে হারিয়ে যাবে সব বিদ্যা, কবিত্ব, সমাজ বিশ্লেষণ এবং আমিত্ব, আত্মশুদ্ধির এই প্রচেষ্টায় আপনাকে সুস্বাগতম..." সন্দীপ গোস্বামী


"একজন নারী যত দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনা, অপমান, নির্যাতন সহ্য করে হাসি মুখে দায়িত্ব পালন করেন, তার সিকি ভাগ সহ্য করার ক্ষমতা পুরুষের নেই । অথচ এই সমাজ পুরুষতান্ত্রিক!" সন্দীপ গোস্বামী


"এখানে কেউ নেই, ওখানে কেউ নেই। তবু এই দুনিয়ায় তুমি একা নও। কিছু ছায়া প্রতিমুহূর্তে তোমায় অনুসরণ করছে।" সন্দীপ গোস্বামী


"এক শহরে থাকি, এক পাড়ায় থাকি, পাশাপাশি বাড়িতে থাকি, এক বাড়িতে থাকি, তাই আমরা সবাই এক! আরে বাবা! জেলখানায় কয়েদি এবং জেলার একসাথে থাকে, তাই বলে কি তারা এক! একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং অন্যজন মুক্ত সরকারি বেতনভুক্ত প্রতিনিধি। এবার নিজে বিচার করে দেখুন আপনি এই পৃথিবীতে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী নাকি ঈশ্বরের প্রতিনিধি! অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজের জীবনকে সেই অনুযায়ী পরিচালনা করুন, সংশোধিত হবেন নয় প্রমোশন পাবেন।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমি তোমায় আকাশ থেকে সূর্য, সপ্তর্ষিমণ্ডল, কালপুরুষ এনে দিতে পারব না । আমি চাই তুমি হয়ে ওঠো সূর্যের মতো দীপ্ত, সপ্তর্ষিমণ্ডলের মতো পবিত্র এবং কালপুরুষের মতো উজ্জীবিত ।" সন্দীপ গোস্বামী


"আমার চারপাশে অজস্র মহান মানুষ গিজগিজ করছেন। একটু ইতিবাচক হন, আপনিও দেখতে পাবেন । বাজারে যে বৃদ্ধ মহিলারা মায়ের ভালোবাসা বুকে নিয়ে শাক সবজি বেচেন, আমি প্রতিদিন তাঁদের মহত্ব উপভোগ করি। যে কৃষক সারাদিন জমিতে কাটিয়ে ফসলের সাথে কথা বলে, তাঁদের মহত্ত্ব আমায় বিস্মিত করে। যে রোয়ারবাজ বেকার যুবক পরম উৎসাহে আগন্তুককে ঠিকানা চিনিয়ে দেয়, তাঁদের মহত্ত্ব আমার বুকে ভালোবাসার জন্ম দেয়। যে রিকশাওয়ালা গাইড হয়ে বিনামূল্যে আমায় নতুন শহরের আনাচে-কানাচে চিনিয়ে দেয়, তাঁদের মহত্ত্ব আমায় শ্রদ্ধায় মাথা নত করে দেয়। যে পাঠক আমার ভাবনা বুকে নিয়ে, একজন থেকে অন্যজন, এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে দেয়, তাঁদের মহত্ত্বকে আমি বারবার প্রণাম করি।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবন মানে প্রতিনিয়ত বিচিত্র সমস্যার সম্মুখীন হওয়া এবং তার সমাধানের চেষ্টা করা। এটা জেনে রাখা ভালো, প্রতিটি সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান আছে। ধৈর্য্য রাখ, পৃথিবী ঘুরছে।" সন্দীপ গোস্বামী


"সুন্দরী মেয়েদের সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করে, বিশেষভাবে পুরুষদের। তবে তা সাময়িক। সুন্দরী মহিলার কুৎসিত ব্যবহার, আচরণ, অহংকার, ক্রোধ বা ঈর্ষা প্রকাশ্যে দেখলে, তাকে কি আর সুন্দরী লাগে! বরং তিনি অতি কুৎসিত হয়ে ওঠেন...আবার বাহ্যিক কোন সৌন্দর্য নেই, এমন অতিসাধারণ মহিলার আন্তরিকতা, মিষ্টতা, আপন করে নেওয়ার শক্তি থেকে অপূর্ব সৌন্দর্য প্রকাশ পায়, যা আমায় মুগ্ধ করে দেয়। বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং অন্তরের সৌন্দর্যের মধ্যে এই ফারাক না বুঝলে সুন্দরের সাধনা করা যায়না।" সন্দীপ গোস্বামী


"মৌলিক ভাবনা বেশিরভাগ মানুষ গ্রহণ করতে পারে না বা চায় না । শিশুবেলা থেকে অর্জিত বিচারধারা তাদের চেতনায় ছড়িয়ে থাকে । কখনও দুর্গের প্রাচীরের মতো জীবনবোধকে অবরুদ্ধ করে রাখে । এটাই স্বাভাবিক । এর বাইরে কেউ কেউ প্রকৃতির অপূর্ব লীলায় মুক্তমনের অধিকারী হন । এরাই এগিয়ে আসেন এবং মৌলিক বিচারধারাকে স্বাগত জানায় । নতুন বিচারধারা সংখ্যালঘুদের হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকে সংখ্যাগরিষ্ঠদের অন্তরে ।" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবনে যা করবে তাতে সেরা হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আমি নিশ্চিত বলছি, ভাগ্য তোমায় শ্রেষ্ঠ না করলেও কর্ম তোমায় তলানিতে থাকতে দেবেনা। জীবনে প্রকৃত উন্নতি সুনিশ্চিত।" সন্দীপ গোস্বামী


"যুদ্ধ কোন খেলা নয়, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে নেই। ইতিহাস সাক্ষী যুদ্ধে পরাজিত শক্তির চাইতে জয়ীশক্তির অনেক গুণ বেশি ক্ষতি হয়। এটাই প্রকৃতির অভিশাপ।" সন্দীপ গোস্বামী


"একজন মানুষ বাইরের জগৎ থেকে প্রাপ্ত আঘাত অনায়াসে উপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু যখন পরিবারের আপনজনদের থেকে আঘাত আসতে থাকে, তখন মানুষটি ধীরেধীরে ভেঙে পড়ে। অনেক সময় সেই আঘাত মানুষটির মৃত্যুর কারণ হয়ে যায়। কি অদ্ভুত এই বিচিত্র সংসার!" সন্দীপ গোস্বামী


"জীবনে যা করবে তাতে সেরা হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আমি নিশ্চিত বলছি, ভাগ্য তোমায় শ্রেষ্ঠ না করলেও কর্ম তোমায় তলানিতে থাকতে দেবেনা। জীবনে প্রকৃত উন্নতি সুনিশ্চিত।" সন্দীপ গোস্বামী


"এই দুনিয়ায় ক্ষুদ্র বলে কিছু নেই, নিজেকে যে বৃহৎ ভাবে, ক্ষুদ্র হল সেই। " সন্দীপ গোস্বামী


"বিদ্যাবুদ্ধি, ধনদৌলত, ক্ষমতা, পুরস্কার, তিরস্কার, অপমান, যন্ত্রণা নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা যে কোন পরিস্থিতিতে মানুষকে শান্ত রাখে, নতুন পথের সন্ধান দেয়।" সন্দীপ গোস্বামী


"যত ঘনিষ্ঠ তত অনিষ্ট। ঘোর কলির এটাই মহামন্ত্র!" সন্দীপ গোস্বামী


"জপে বিদ্যা, জপে সমৃদ্ধি, জপেতে মেলে শক্তি। 

জপে সাধনা, জপে শান্তি,


জপেতে পাও ভক্তি।।" সন্দীপ গোস্বামী

Philosophy of Sandip Goswami সন্দীপ গোস্বামীর সন্দীপনী দর্শন


 সাহিত্যবিষয়ক সন্দীপ গোস্বামীর উক্তি 

১। "বাংলাদেশের কবিতা এবং পশ্চিমবঙ্গের কবিতার মধ্যে গুণগত পার্থক্য আছে । বাংলাদেশের কবিরা যা ভাবেন তাই লেখেন । তাই তাঁদের কবিতা স্পষ্ট এবং সহজেই সাধারণ পাঠকের কাছে ধরা দেয় । পশ্চিমবঙ্গের কবিরা যা ভাবেন তা লেখেন না, লিখতে চান ভাবনার উৎস । তাই তাঁদের কবিতা রহস্যময়, জটিল এবং ঋদ্ধ পাঠকের মস্তিষ্ক ছুঁয়ে হৃদয়ে পৌঁছাতে চায় । এই দুই ধরণের কবিতাই বাংলা সাহিত্যের সম্পদ । তবে মহাকালের বিচার শেষ কথা বলবে ।"


২। "কবির কাজ সত্যকথা বলা । তাই কবিতা পবিত্র, শ্বেতশুভ্র । এই সময়ের কবিদের গায়ে কত রং । রঙিন কবিদের দেখতে সুন্দর লাগলেও অপবিত্র হয়ে যাচ্ছে কবিতা । সত্য হারিয়ে কবিতায় স্তাবকতা প্রকাশ পাচ্ছে । কবি তুমি শ্বেতশুভ্র হয়ে ওঠো । আমাদের কথা বল । আমরা এখনও অন্ধ হয়ে যাইনি ।"


৩। "আমরা সবাই কবি, কেউ কাগজে কবিতা লেখেন, কেউ মনে মনে... মানুষের সেই কবিমনকে জাগিয়ে তুলতে রবীন্দ্রনাথ যেমন অমলকে সৃষ্টি করলেন, তেমনি বিভূতিভূষণের অপু। অপু সেই নিষ্পাপ বালক যার চোখ দিয়ে বিভূতিভূষণ আমাদের কাছে তুলে ধরলেন অসহায় মানুষ এবং প্রকৃতিকে । আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকারে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা সেই মানুষদের সাথে প্রকৃতির অন্তরঙ্গতার চিরন্তন আখ্যান সারাজীবন ধরে কবি (আমি বিভূতিভূষণকে ১০০% জীবন্ত কবি মনে করি) লিখে গেছেন। এই বোধ কবিকে প্রান্তিক করে দিলেও এখনও তার সৃষ্টি নাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রে থাকা সর্বপ্রাপ্তির যন্ত্রণায় দিশাহারা অদ্ভুত ডলার শ্রেনিকে, যারা কোনদিন জানতেও পারেনি নদী কথা বলে... আকাশ হাসে... বৃক্ষ ভালোবাসে ... এই অদ্ভুত অসহায় মানুষদের মধ্যে বিভূতিভূষণ চর্চা খুব জরুরী, যা দেশ এবং দশের মঙ্গল করবে ।"


৪। "সংস্কার অবৈজ্ঞানিক হলেও তা কবিতার থেকে অনেক শক্তিশালী । যা সাধারণ মানুষের মাথা নত করায়, অথচ কবিতা মানুষকে মাথা তুলে এগিয়ে চলার প্রেরণা যোগায় । এর গভীর অর্থ খুব কম মানুষ জানেন ।"


৫। "কবিতা কী শুধুই কবির প্রলাপ, বিলাপ, যন্ত্রণা, প্রতিবাদ, ভালোবাসা ! এর বাইরে কী কবিতার থেকে কিছুই পাওয়া যায় না? আমরা যে ইতিহাস পড়ি তা অর্ধসত্য । উল্লেখযোগ্যতার বাইরে ইতিহাস পঙ্গু । ইতিহাস লিখতে চায় না সাধারণ মানুষের বর্ণহীন অবদানের কাহিনী । এইখানেই কবিতার অবদান । কবিতা অতি সাধারণ মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ছন্দ প্রান্তিক থেকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয় । তাই কবিতাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস অসম্পূর্ণ । কবিতাকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞানও সম্পূর্ণ নয় । বহুমাত্রিক কবিতার অন্তরে বিজ্ঞানীরা সন্ধান করছেন বিজ্ঞানের অজানা রহস্য । মনোবিজ্ঞানের অনেক থেরাপি কবিতার ছন্দকে আপন করে নিয়েছে । আর কবিতাকে ছাড়া সংগীত কী মনকে দোলা দিতে পারে ! আজও পৃথিবীর আলোকিত অন্ধকারে কবিরা নিষ্ঠার সাথে লিখে চলেছেন মানব সভ্যতার প্রকৃত ইতিহাস । যা প্রেমময় পূর্ণসত্য !"


৬। "দার্শনিকের চেতনায় দর্শন থাকলেও, কবিত্ব থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে । কিন্তু কবির চেতনায় কবিত্ব, দর্শন, বিজ্ঞান থাকে । তাই কবিতা দর্শন এবং বিজ্ঞানের থেকেও অনেক উপরতলার অনুভূত সত্য, যা চিরন্তন, সনাতন ।"


৭। "ভালোবাসার কবিতা বলে কিছু হয় না, প্রতিটি কবিতার অন্তরে লুকিয়ে থাকে কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা । কবিতার পাঠক-পাঠিকা সেই ভালোবাসাকে কোনদিন ভুলতে চায় না ।"


৮। "হীরার খনি থেকে পাঁচ-দশটা হীরা চুরি করে খনির মালিককে ভিখারি বানানো যায় না । তেমনি একজন সৃজনশীল মানুষের মৌলিক ভাবনা চুরি করে কিছুদিন সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দিতে পারলেও, গবেষকরা প্রকৃত সত্য ঠিক বুঝে যান । সৃষ্টি থেকে স্রষ্টাকে কোনদিন আলাদা করা যায় না ,বহুবিধ লক্ষণ প্রকাশ পায় ।বরং ইতিহাস এই চৌর্যবৃত্তিকে কোনদিন ক্ষমা করে না ।"


৯। "মৃত্যুর মিছিলে লিখি

 জীবনের সংবাদ

এখনও কবিতা আছে

আছে প্রতিবাদ। "


১০। "মৌলিক ভাবনা বেশিরভাগ মানুষ গ্রহণ করতে পারে না বা চায় না । শিশুবেলা থেকে অর্জিত বিচারধারা তাদের চেতনায় ছড়িয়ে থাকে । কখনও দুর্গের প্রাচীরের মতো জীবনবোধকে অবরুদ্ধ করে রাখে । এটাই স্বাভাবিক । এর বাইরে কেউ কেউ প্রকৃতির অপূর্ব লীলায় মুক্তমনের অধিকারী হন । এরাই এগিয়ে আসেন এবং মৌলিক বিচারধারাকে স্বাগত জানায় । নতুন বিচারধারা সংখ্যালঘুদের হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকে সংখ্যাগরিষ্ঠদের অন্তরে ।"


১১। "মনের মতো ভাবনা অনেক সময় উৎকৃষ্ট ভাবনা নয় । যে ভাবনা মনকে উৎকৃষ্ট করে তোলে, আরও ভাবতে বাধ্য করে । সেই ভাবনাকে উৎকৃষ্ট ভাবনা বলে ।"


১২। "প্রচুর গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ পড়ার শেষে কিছু লেখার ক্ষমতা নাও আসতে পারে I কিন্তু এক মাস মন দিয়ে কবিতা পড়লে কলমে এসে যাবে কবিতা । কবিতার এমন অদ্ভুত শক্তি, যা মস্তিষ্ক এবং হৃদয়ে দ্রুত জায়গা করে নেয় । সাধারণ মানুষও লিখতে পারেন মনের কথা । আত্মপ্রকাশে কবিতার মতো আশ্চর্য মাধ্যমের কোন তুলনা নেই ।"


১৩। "কবিচরিত্র একটি মুদ্রার মতো, যার এক পিঠে প্রেম এবং অন্যপিঠে থাকে বিদ্রোহ । প্রকৃত পাঠক বিদ্রোহের মধ্যেও কবিহৃদয়ের গভীর প্রেম খুঁজে পান ।"

১৪। “বিশুদ্ধ মস্তিষ্ক এবং আহত হৃদয়ের মানুষদের জন্য ভালোবাসার কবিতা ।”


১৫। "কবিতা না লিখে যিনি বাঁচতে পারবেন না, তিনি কবি । সংগীত, অভিনয়, শিল্পকলার চর্চা না করে যিনি বাঁচতে পারবেন না, তিনি কলাকার, শিল্পী । শিক্ষাদান না করে যিনি বাঁচতে পারবেন না, তিনি শিক্ষক । ভালো না বেসে যিনি বাঁচতে পারবেন না, তিনি প্রেমিক । বাদবাকি সৌখিন মজদুর ।"


১৬। "যে মুহূর্তে কবিতার 'আমি', পাঠকের 'আমি' হয়ে উঠবে । সেই শুভক্ষণে কবিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ।"


১৭। “কবিকে দাবিয়ে রাখতে পার । কিন্তু কবিতাকে দাবিয়ে রাখার শক্তি মানুষতো দূরের কথা, ঈশ্বরের নেই । আজ অথবা হাজার বছর পরেও কবিতা ঠিক প্রস্ফুটিত হবে । “প্রকৃত কবিতা অনন্ত শক্তির অধিকারী । কবিতা কবির অমূল্য সৃষ্টি । যার তুলনা এই জগতে নেই ।”

 

১৮। "বস্ত্রহীন মানুষ উলঙ্গ । সাহিত্যহীন মানুষও উলঙ্গ । দৃষ্টি দিলে দেখা যায় ।"


১৯। "কবিতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে আরও একটি কবিতা । তার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে সময়ের মহাকাব্য ।"


২০।"কবিতা লেখার পর কবিরা ভুলেই যান তার প্রিয়তমাকে । এরপর কবির নাম বুকে নিয়ে কবিতা ভেসে ভেসে পৌঁছে যায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক যুগ থেকে অন্য যুগে, একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের হৃদয়ে । প্রত্যেক কবি, কবিতার এই চিরন্তন ভালোবাসার কাছে প্রবলভাবে ঋণী ।"


২১। "একজন প্রকৃত কবি অন্য কবিদের হৃদয়ের যন্ত্রণা অনুভব করতে পারেন । কবিতা-লেখকরা শুধুই চিৎকার করে ।”

 

২২। "কবি ঈশ্বরের আশীর্বাদে জন্মান, কিন্ত প্রকৃতির অভিশাপ বুকে নিয়ে তাঁর জীবন অতিবাহিত হয় । পরবর্তীতে আমরা কবির প্রতিচ্ছবিতে ফুলের মালা পরালেও কাঁটার মালায় সজ্জিত কবি তা জানতেও পারেন না । কবির বিচ্ছেদে কাতর কবিতাও রহস্যময়ী হয়ে সব পাঠককে কবির হৃদয় ছুঁতে দেয় না । কবিকে না জানলে তাঁর কবিতার রসগ্রহণ খুব কঠিন ।"


২৩। “মুহূর্তের মধ্যে থাকে জীবন 

প্রতিটি জীবনের থাকে নিজস্ব ইতিহাস i

সেই ইতিহাস হয়ে ওঠে কবিতা...

কবির আত্মজীবনী!”

 

২৪। "একটি কবিতার পাতা কোন মানুষের কাছে ছেঁড়া কাগজ, আবার কোন মানুষের কাছে জীবন দলিল । এই রহস্যময় উপস্থিতি কবিতাকে, সাহিত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ।"


২৫। "যেখানে বাংলা ভাষা, সেখানে ভালোবাসা ।"


২৬। "রবীন্দ্রসাহিত্যকে মানব অনুভূতির মিউজিয়াম বলা যায়, যা মানুষের লুপ্তপ্রায় অনুভূতিকে পুনর্জীবন দান করে ।"


২৭। "সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠক-পাঠিকার রুচি অনুযায়ী কবি, লেখকরা লিখতে শুরু করলে, অর্থনীতি লাভবান হলেও কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বসাহিত্য অন্ধ হয়ে যাবে । মানুষের চিরাচরিত ভালোলাগাকে পরিবর্তিত করার প্রচেষ্টাই একজন সৃজনশীল মানুষের সাধনা ।"


২৮। "কবিতাকে নানা কোণ থেকে পাঠক, পাঠিকা, সমালোচকেরা কাটাছেঁড়া করে বিভিন্ন মণিমাণিক্য আবিষ্কার করতে পারে এবং সর্বশেষে কবির রক্তাক্ত জীবন্ত হৃদয় খুঁজে পায় । এই হৃদয়কে উপেক্ষা করে কবিতাকে আত্মস্থ করা অসম্ভব । কবিহৃদয় হল কবিতার আত্মা ।"


২৯। "আমরা অন্য মানুষদের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে থাকি, তাই বারবার বুঝতে গিয়ে ব্যর্থ হই । যদি সেই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাকে বিচার করতে পারি, তবে সহজে সেই মানুষকে বোঝা যায় এবং খুব ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় । সাহিত্য আমাদের সেই দৃষ্টি দান করতে প্রবলভাবে সক্ষম ।"


৩০। "একজন স্বাভিমানী কবি আমাদের কি দিতে পারেন! ভোগবাদী ব্যবস্থার কোন উপকরণ তিনি দিতে চান না, দিতে পারেন না মিথ্যা সহানুভূতি, আশ্বাস । তিনি নিজের প্রাণের কথা, অন্যের প্রাণের কথা, প্রকৃতির প্রাণের কথা তাঁর কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেন । তিনি মানুষ সহ বিশ্বের সমস্ত প্রাণী এবং প্রকৃতির ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান । তিনি সত্যকে আঁকড়ে সমস্ত মিথ্যার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন । ক্ষমতাবানরা কখনও প্রকাশ্যে, কখনও গোপনে কবির ব্যক্তিগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে । তবু তিনি মাথা নত করেন না । তিনি লিখতে থাকেন আমাদের কথা, আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ । আমরাও কৃতজ্ঞচিত্তে যুগ যুগ ধরে হৃদয়ের সিংহাসনে তাঁর আসন পেতে রাখি । তিনি আমাদের জীবনে পরমাত্মীয় হয়ে বেঁচে থাকেন ।"

 

৩১। "সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা যতই উৎকৃষ্ট, ধ্রুপদী হোক না, যদি মানুষকে সত্যের পথ, মানবজাতির মঙ্গলের পথ না দেখাতে পারে, তবে তা ধীরে ধীরে গুরুত্বহীন হয়ে যায় ।" 


৩২। "একজন বৈজ্ঞানিক এবং একজন কবির মধ্যে মিল কোথায় বলুন তো, দু'জনেই সত্যান্বেষী ।"


৩৩। "বই পড়লে জ্ঞান হয় । সেই জ্ঞান আত্মশুদ্ধি ঘটায় । আত্মশুদ্ধি মহৎ কর্মে প্রেরণা যোগায় । গ্রন্থ না পড়লে মহৎ কর্ম করা খুব কঠিন ।"


৩৪। "লিটল ম্যাগাজিনের কোন সংখ্যা সাধারণ নয়। সব সংখ্যাই বিশেষ পুনর্জন্ম সংখ্যা ।"


৩৫। "হাজার কবিতা - লেখকদের চেয়ে একজন নিবিষ্ট পাঠক কবিতার জগতে অনেক বেশি অক্সিজেন যোগান । প্রকৃত কবিতা-প্রেমী কবিতা এবং কবির শ্রেষ্ঠ সম্পদ ।"


৩৬। "সাধারণ মানুষ যখন কাঁদেন, ঈশ্বর স্থির। কবি যখন কাঁদেন, ঈশ্বর প্রলয় ডেকে আনেন।"


৩৭। "কবিতার শহর কলকাতা। কবিদের দেশ নদীয়া ।"


৩৮। "মহাকালের বিচারে সেই লেখা উত্তীর্ণ হয় , যার মধ্যে উত্তরণ আছে । উত্তরণের পথ তিনি দেখাতে পারেন , যিনি সেই পথে হাঁটছেন । বৃহৎ এবং শক্তিশালী মনের মানুষ না হলে কোনও লেখক কী সেই পথ পাড়ি দিতে পারেন !"


৩৯। "একদিন সেই সূর্য উঠবে । যার চৈতন্যময় আলোকে চারিদিক আলোকিত হবে । আমরা সেই আলোর প্রত্যাশী ।" 


৪০। "যে কবি যৌনতাকে শারীরিক প্রভাব কাটিয়ে আত্মিক বা নৈসর্গিক করে তুলতে পারেন, তিনি হবেন যৌনতা বিষয়ক কবিতা রচনার অধিকারী ।"


৪১। "আজও ভারতীয় নারীরা সহস্রাব্দ অতিক্রান্ত ভারতীয় সংস্কৃতির গুপ্তধনে সিদ্ধ । তাই তাঁদের সাহিত্য- সংস্কৃতিতে মানবিক বোধের পরিচয় স্পষ্ট ।"


৪২। "বর্তমান সময়ে ডিগ্রি ধারীর পূজা চলছে । ডিগ্রি তো তাপমাত্রার পরিচয় । আলোর উৎস প্রকৃত বিদ্বান মানুষেরা ।"


৪৩। "বুদ্ধিজীবী নয় , প্রকৃত বুদ্ধিমান মানুষের বড় প্রয়োজন ।"


৪৪। "প্রকৃত শিল্পী আত্মা দ্বারা আত্মাকে আত্মাতে দেখে আত্মমুক্তির পথ খুঁজে পান ।"


৪৫। "বড় মনের মানুষ শুধু বড় কবি , লেখক , শিল্পী হন না । তিনি বড় মানুষ হয়ে ওঠেন । এটাই পরম প্রাপ্তি ।"

Sunday, 5 October 2025

Wednesday, 16 June 2021

Aspects of contemporary Indian poetry

The book "Aspects of contemporary Indian poetry" is out  by Bibliotheque Press, in Athens, Greece.



The book is of course in Greek. It contains poems by: Malay Roy Choudhury, Arvind Krishna Mehrotra, Kala Ramesh, Manohar Shetty, Rati Saxena, Subhankar Das, Sandip Goswami সন্দীপ গোস্বামী , Nabina Das, Ranjit Hoskote, Rajarshi Chattopadhyay, Anjum Hasan, Atanu Bhattacharja, Kaushik Chakrabarty, Hemang Desai, Arjun Rajendran, Goirick Brahmachari, Semeen Ali, Rohan Chhetri, and Anindya Sundar Roy.

The book "Aspects of contemporary Indian poetry" translated, edited and with a critical introduction by the poet Yannis Livadas.

Sunday, 27 January 2019



Sandip Goswami with his son Souhardya Goswami at Nabadwip Book Fair.
PC: Shibam Saha